অবশেষে এম জে আকবরের পদত্যাগ

নারীদের যৌন হেনস্তা ও নির্যাতন বিরোধী অনলাইনভিত্তিক হ্যাশট্যাগ মিটু আন্দোলনের তোড়ে এবার মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর।

ভারতের এনডিটিভি ও আনন্দবাজারসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তার পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছেন আকবর।

পদত্যাগপত্রে আকবর লিখেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় বিচারকার্যের স্বার্থে আমি আমার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াটাই সমীচিন মনে করছি।

তিনি আরও লিখেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেই এর বিরুদ্ধে আমি আইনি লড়াই চালাতে চাই। তাই আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।

গত কয়েক দিনে ৬৭ বছর বয়সী আকবরের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। যারা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, আকবর যখন সম্পাদক ছিলেন সে সময় যৌন হেনস্থা করেছেন।

মূলত এমজে আকবরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনেন সাংবাদিক প্রিয়া রমনী, গত ৮ অক্টোবর। তিনি টুইটে উল্লেখ করেন, বছরখানিক আগে ভোগ ইন্ডিয়ার একটি নিবন্ধের বিষয়ে আলাপ করতে গেলে এমজে আকবর তাকে যৌন হয়রানি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভে উইনস্টেইনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রথম #মিটু’র মাধ্যমে ক্যাম্পেইন শুরু হয়। এরপর সম্প্রতি তা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

এমজে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকারীদের মধ্যে আরো রয়েছেন, প্রিয়া সিং বিন্দ্রা, ঘজালা ওয়াহাব, সুপ্তা পাল, আনজু ভারতী, সুপর্ণা শর্মা, সোমা রাহা, মালিনী ভুপ্তা, কণিকা গৌলত, কদমবারি এম ওয়েড ও মাজলি দ্য পু ক্যাম্প।

ক্ষমতাসীন বিজেপি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে দলটির অনেক মন্ত্রীই এই ক্যাম্পেইন সমর্থন করেছেন।

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী মানেকা গান্ধী এমজে আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রামদাস অথাওলে বলেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমজে আকবরের পদত্যাগ করা উচিত।’

গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘যেই যৌন নিপীড়নের শিকার হন না কেন মুখ খুলতে হবে, লজ্জা পেয়ে লাভ নেই।’

ইতোমধ্যে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনসহ বিভিন্ন দল এমজে আকবরকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে।

তবে নাইজেরিয়া সফর শেষে রোববার দিল্লি ফিরে বিমানবন্দরে এমজে আকবর জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন এবং এ বিষয়ে পরে বক্তব্য দিবেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে এই ঝড় উঠল কেন? এটা আপনারাই (সাংবাদিক) বুঝে নিন। এই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানানো অভিযোগগুলো আমার ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।’