অলরাউন্ডার সাকিবের বিশ্বরেকর্ড

ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন সাকিব আল হাসান। এতে সাকিব ভেঙে দিলেন কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ইয়ান বোথামের রেকর্ড। টেস্টে ব্যাট হাতে ৩০০০ রানের পর বোলিংয়ে ২০০ শিকার পূর্ণ হলো সাকিব আল হাসানের। আর সাকিব ব্যাটে-বলে এ ‘ডবল’ অর্জন করলেন ৫৪ ম্যাচে। এতে ইংলিশ লিজেন্ডারি অলরাউন্ডার বোথামের জন্মদিনেই সাকিব ভেঙে দিলেন তার রেকর্ড। ৫৫ ম্যাচে এমন অর্জন নিয়ে টেস্টে দ্রুততম ৩০০০ রান ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়েছিলেন বোথাম।

২০১০, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাকিব আল হাসানের বলে আউট হলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষণ। এতে সাকিব স্পর্শ করেছিলেন টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক। এরপর বাংলাদেশি বাঁ-হাতি স্পিনার ৮ বছরে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

টেস্টে ব্যাটে-বলে  তিন হাজার রান ও ২০০ উইকেটের কীর্তি রয়েছে আরো ১৩ জন ক্রিকেটারের।  যেখানে নাম আছে কপিল দেব, ইমরান খান, গ্যারি সোবার্সের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। তবে অভিজাত এই ক্লাবে একমাত্র বাংলাদেশি সাকিব। টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান ও ৩০০ উইকেট এখনো নিতে পারেননি কেউ।
সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে ছিল  অনিশ্চয়তা। আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে টেস্ট অধিনায়ককে পাওয়া যাবে না, এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে সাকিব নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন মাঠে ফেরার। দলও  ঘোষণা হলো তাকে রেখেই। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের আগের দিন পর্যন্ত সাকিবের খেলা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। তবে মাঠে নামলেন তিনি রেকর্ডের হাতছানি নিয়ে। মাত্র ৪ উইকেট প্রয়োজন ছিল তার। বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসেই ৩ উইকেট তুলে নেন চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে। তৃতীয় দিন ছিল মাত্র এক উইকেটের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার অবসানও হলো দ্রুতই। ম্যাচ শুরুর আগে সাকিব বলেছিলেন, ‘যদি (২০০) হয়, তাহলে হয়তো অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করতে পারে।’ মাইলফলকের উইকেট শিকারের পর তার উদযাপনের ভঙ্গিই বলে দেয় কতটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করেছে তার।

বাংলাদেশের প্রথম ১০০ টেস্ট উইকেটের মালিক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ২০০৮-এ নিজের শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। ঠিক তার এক বছর আগে সাকিব আল হাসানের টেস্ট অভিষেক হয়। শুরু হয় নতুন প্রজন্মের বাঁহাতি এই স্পিনারের শিখরে ওঠার লড়াই। সেই সঙ্গে তার হাতেই চলতে থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। ২০১২-তে সাকিব ১০০ উইকেটের ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করেন নিজের ২৮তম টেস্টে। খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামিকে ফিরিয়ে রফিককে ছাড়িয়ে যান তিনি। এরপর তিনি ছাড়িয়ে যেতে থাকেন নিজেকেই। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে জো রুটকে আউট করে দেখা পান ১৫০তম উইকেটের। সেই ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর বাকি ৫০ উইকেট নিতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আরো ২ বছর। তবে এর মধ্যে খেলেন মাত্র ১১টি টেস্ট। ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে খেলা হয়নি তার।

চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিব আল হাসান দুই ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ২টি। যেখানে ক্যারিবীয়রা ২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিল। তবে সাকিবের দলের স্পিন বিষে  ঘায়েল ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত দেখে ৬৪ রানের হার। টেস্টে নিজেদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।

টেস্টে ৩০০ রান ২০০ উইকেট
গ্যারি সোবার্স, ইমরান খান, রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, ক্রিস কেয়ার্নস, শেন ওয়ার্ন, চামিন্দা ভাস, শন পোলক, জ্যাক ক্যালিস, ড্যানিয়েল ভেট্টরি, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ও স্টুয়ার্ট ব্রড