আগাম টিকিট বিক্রির শেষদিনে উপচে পড়া ভিড়

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির শেষদিন চলছে। এদিনে কাঙ্খিত দিনের টিকিট পেতে উপচে পড়া ভিড়ে স্টেশনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। টানা ২০ ঘণ্টা অপেক্ষা করে কেউ কেউ টিকিট পেলেও অনেককে চলে যেতে হচ্ছে খালি হাতে। আজ বুধবার দেওয়া হচ্ছে ১৫ জুনের টিকিট।
বুধবার সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে ঈদের আগাম টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু করে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন গিয়ে ঠেকেছে প্রধান সড়কের কাছাকাছি। গত রাত থেকে অপেক্ষমাণ টিকিট প্রত্যাশীদের পদচারণায় স্টেশন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

স্টেশনে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

পুরান ঢাকা থেকে চার বন্ধু মিলে দিনাজপুরের ট্রেনের টিকিট কিনতে আগেরদিনের বিকেলেই চলে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা। এখানেই তারা ইফতার-সেহরি খেয়েছেন। কখনও ঘুমিয়ে, কখনও জেগে, কখনও গল্প করে পার করেছেন রাত। সকালে টিকিট বিক্রি শুরুর পরেও সহজে টিকিট পাওয়ার আশা নেই।  কারণ লাইনে তাদের আগে রয়েছেন আরও ৫০ জন টিকিট প্রত্যাশী। এরপর মিলবে নিজেদের টিকিট।
কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আজ ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। সকাল ৮টা থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ দেয়া হচ্ছে ১৫ জুনের টিকিট। তবে রোজা যদি ৩০টি হয় অর্থাৎ ১৭ জুন ঈদ হয়; তাহলে আগামী ১৬ জুন বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন চালু থাকবে। ১৫ তারিখ এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে কতটি ট্রেন চলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
ঈদযাত্রায় এবারের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১ জুন থেকে। আজ বুধবার টিকিট বিক্রির শেষ প্রান্তে এসে অনেকেই আগের দিন বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসের অফিস করে শুক্রবার বাড়ির পথে রওনা দেবেন। ঢাকায় ফিরতি পথের টিকিট ১০ জুন থেকে বিক্রি শুরু হবে।
রেলস্টেশনের ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি চলছে। এর মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। আজ ২৭ হাজার ৪৬১টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তবে নারীদের কাউন্টার দুটির উল্লেখ থাকলেও কেবল একটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি দেখা গেছে।