আজকের মধ্যে প্রত্যাহার না হলে কাল থেকে বিদ্রোহী

এইচ এম আলাউদ্দিন:: দলীয় কঠোর অবস্থানের মধ্যেও প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ত কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। দল মনোনীত প্রার্থীদের বাইরের প্রার্থীরা আজকের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে কাল থেকেই তারা হবেন বিদ্রোহী প্রার্থী। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা। রোববার রাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দল। দলীয় প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাথে চারদলীয় জোটের প্রধান শরীক জামায়াতের প্রার্থীদের সমঝোতার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একই দলের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঘিরে এভাবেই দু’টি দলে আভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন প্রার্থী বলছেন, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত ভোটাররা দেবেন না। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও কেউ কেউ প্রার্থী হিসেবে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন।কেসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও দৌলতপুর থানা আ’লীগের সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটে পরাজিত হলেও মাঠে ছিলেন। জনগণের সাথে মিশেই আছেন তিনি। এখন নির্বাচনের আগে এসে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি সেটি মেনে নিতে নারাজ। এজন্য তিনি চূড়ান্তভাবেই প্রার্থী থাকছেন। এ ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন-অর-রশীদ।
এমনিভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির সাথে জামায়াতের সমঝোতার চেষ্টা চললেও ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও দৌলতপুর থানা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহজী কামাল টিপু বলেন, তিনি দলকে জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের বর্তমান প্রার্থীকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে এ ওয়ার্ডে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো: মহিউদ্দিন। অবশ্য গতকাল গভীর রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া নতুন কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আগে সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম সালেককে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও এখন সেটি উম্মুক্ত করা হয়। একইভাবে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মো: আসলাম হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও তার মনোনয়নপত্রটি নির্বাচন কমিশন থেকে বাতিল হয়ে যায়। গতরাতে ওই ওয়ার্ডটিও বিএনপি উম্মুক্ত করে। এছাড়া ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটি উম্মুক্ত করা হলেও বর্তমান কাউন্সিলর মুহা: আমানউল্লাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। একইভাবে সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোছা: আনজিরা খাতুনের পরিবর্তে মিসেস মনিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।এছাড়া আগে ঘোষিত তালিকা ঠিক থাকবে বলেও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিএনপির রোববার মনোনয়ন বোর্ডের সভা থেকে দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী রয়েছেন, তাদেরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাড়িয়ে বিএনপি মনোনীত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার আহবান জানানো হয়েছে। অবশ্য গতকাল পর্যন্ত কয়েকটি ওয়ার্ডে বিএনপির অতিরিক্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন রিটার্নিং অফিসারের কাছে। এরা হলেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ লুৎফর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মীর মোকসেদ আলী ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ।আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগর সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে জরুরী সভা দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রবিবার রাত ১০ টায় জরুরী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় নেতা এস এম কামাল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এম ডি এ বাবুল রানা ও মো. আশরাফুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আইয়ুব আলী শেখ, দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, মিজানুর রহমান জিয়া, এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়া দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী যে সকল কাউন্সিলর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের মনোনয়নপত্র আজকের(সোমবার) মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সভা থেকে মোবাইল ফোনেও সকলকে প্রত্যাহার করার জন্যে অনুরোধ জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তের পরেও যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না তাদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়।
দলীয় এমন সিদ্ধান্তের পরেও এ দলের ১৭টি ওয়ার্ডে থাকছেন ২৬জন বিদ্রোহী প্রার্থী। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ কাজী আবুল কালাম আজাদ বিকুকে সমর্থন করলেও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মো: নুর ইসলাম শেখও। তিনি গতরাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন। প্রার্থী থাকার কথা জানিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাক শেখ আব্দুর রাজ্জাকও। এ ওয়ার্ডে আ’লীগের প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো: শাহাদাত মিনা।গতকাল পর্যন্ত আ’লীগের অতিরিক্ত প্রার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো: মিজানুর রহমান তরফদার ওরফে মিজা তরফদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
নগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, গতরাতে বিএনপি বৈঠক করে নানা হিসাব-নিকাশ শেষে কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকা পুন:প্রকাশ করা হয়েছে। এর বাইরে কেউ প্রার্থী হিসেবে থাকবেন না বলেও তিনি আশা করছেন। অপরদিকে, নগর জামায়াতের সাবেক আমীর ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জোটের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাঁচটি ওয়ার্ড দাবি করা হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে, ১, ৩, ১২, ১৯ ও ৩১। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের সাথে দু’দফায় বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু বিএনপি পাঁচটি ওয়ার্ড ছাড় দিতে রাজি হয়নি। তার পরও আজ সোমবার পর্যন্ত তারা দেখবেন বিএনপি কি করে। যদি পাঁচটি ওয়ার্ডে ছাড় না দেয়া হয় তাহলে জামায়াত এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও তিনি জানান।