আজ থেকে বাইরের ইজিবাইক মহানগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না, বাইরেও যাবে না

এ এইচ হিমালয় : ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ থেকে দৃশ্যমান তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। আজ ১৫ জানুয়ারি থেকে খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে। আজ সকাল ৭টা থেকে নগরীর ৮টি প্রবেশদ্বারে কেসিসির কর্মচারী ও পুলিশ যৌথভাবে এই কাজ তদারকি করবে। এজন্য দুটি শিফটে কেসিসির ৩৬ জন কর্মচারীকে ৮টি চেকপোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরীকে যানজটমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। নগরীতে যানজটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সংখ্যক ইজিবাইক। নগরীতে এখন কমপক্ষে ৩০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে ইতোপূর্বে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা’ কার্যকর হয়নি। বর্তমান সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের নির্বাচনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো যানজটমুক্ত নগরী উপহার দেওয়া।

এ জন্য গত ১০ জানুয়ারি থেকে তৎপরতা শুরু করে কেসিসির কর্মকর্তারা। ওই দিনই বাইরের ইজিবাইক নগরীতে যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কেসিসিকে সহযোগিতা করতে কেএমপি কমিশনারকে চিঠি দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একই সঙ্গে রোববার থেকে নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করা হয়।
কেসিসির সিনিয়র লাইলেন্স অফিসার এস কে তাছাদুজ্জামান জানান, নগরীতে বিপুল সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল করে। এছাড়া খুলনা নগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ করে।

অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে নগরীতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এজন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিটি মেয়র বাইরের ইজিবাইকগুলোকে নগরীতে প্রবেশ বন্ধ করতে বলেছেন। সেজন্য নগরীর ৮টি প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টগুলো হচ্ছে গল্লামারী মোড়, ময়ূর নদীর ওপর কেডিএর ময়ূরী ব্রিজ, রূপসা সেতু দিয়ে প্রবেশমুখ, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা মোড়, তেলিগাতী ল্যাবরেটরি মোড়, যোগীপোল মোড় ও বাদামতলা বিআরটিএ অফিস মোড়।

তিনি জানান, গত রোববার থেকে ৩টি মাইক নগরীর ভেতরে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করেছে। সবাইকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাইরের ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ বন্ধ হলে নগরীর ভেতরে চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে কেসিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাইরের ইজিবাইক নগরীতে প্রবেশ বন্ধের পর নগরীর ভেতরে চলাচলকারী ইজিবাইকগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রঙ করা হবে। এতে কোনটি নগরীর এবং কোনটি বাইরের সেটা বোঝা যাবে। শেষ পদক্ষেপ হিসেবে প্রকৃত ইজিবাইক চালকদের নিবন্ধন দেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ইজিবাইক চলতে পারবে না। এছাড়া নগরীর গণপরিবহন সমস্যা দূর করতে কিছু রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।