আতংকে খুলনার মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদাররা

সুবীর রায়:: দেশব্যাপী র‌্যাব পুলিশের চলমান অভিযানে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে খুলনার মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের গডফাদারদের মধ্যে। গত চার দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৯জন মাদক ব্যবাসায়ী র‌্যাব ও পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে মাদক, অস্ত্র ও গুলি। রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত দেশের ৭জেলায় ৯জন মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। র‌্যাব পুলিশের এ অভিযান দেখে খুলনার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের গডফাদাররা অনেকে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী খুলনা মহানগরী ও জেলা মিলিয়ে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে ৩৩৪জন। আর মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার বা তাদের পৃষ্ঠপোষক রয়েছেন ১৩জন। এ সকল মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদাররা বেশ প্রভাবশালী। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে র‌্যাবসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিলে শুরু হয় অভিযান। আর অভিযান শুরু হওয়ায় বেকায়দায় রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের গডফাদাররা। খুলনার ৩৩৪জন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ১৩জন গডফাদারের মধ্যে বেশীর ভাগের অবস্থান খুলনা শহরে। জেলার ৯টি উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যা’ শহরের তুলনায় অনেক কম। তবে মাদক ব্যবসা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার নাম রয়েছে খুলনার তালিকায়। যা’ ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে র‌্যাব-৬, খুলনা জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রয়েছে। খুলনা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের দিকে সতর্ক নজর রাখছে র‌্যাব ও পুলিশ। যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা।
সূত্র জানায়, গত ৩ মে র‌্যাবের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের কথা জানান। এরপর দেশজুড়ে বিভিন্ন বাহিনীকে অভিযানে দেখা যাচ্ছে। গত ১৪ মে র‌্যাবের এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তারা মাঠে নেমেছেন। মাদকের বিরদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনের আগে ৩০ এপ্রিল কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও গোয়েন্দা পুলিশ, রেল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং বিজিবিকেও মাদকবিরোধী অভিযানে দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মাদক চক্রের চিহ্নিত কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার রাতেও ৭ জেলায় ৯ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ জেলাগুলো হলো, যশোর টাঙ্গাইল, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী ও গাজীপুর। শনিবার রাতে ছয় জেলায় ছয়জন নিহত হয়েছে। যার চারজনই মাদক কেনা-বেচায় জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য। তার আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনিতে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হন দুজন। র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে বরিশাল, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত পাঁচ দিনে নয়জন নিহত হয়। নিহতরা সবাই মাদক কেনা-বেচায় জড়িত বলে র‌্যাবের দাবি। শুক্রবার রাতে যশোরের নওয়াপড়ায় বন্দুকযুদ্ধে তিন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সোনালী সেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান সবসময় চলমান রয়েছে। যা’ বর্তমানে আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের ন্যায় খুলনা বিভাগে মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।