আলেমদের শুকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

বহুল কাঙ্ক্ষিত কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি বাস্তবায়ন হওয়ায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেমদের আয়োজিত ‘শুকরানা মাহফিল’ শুরু হয়েছে। এতে যোগ দিয়েছেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও কওমি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আয়োজিত এই শুকরিয়া মাহফিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে আসেন ১০টা ৪৫ মিনিটে।

এর আগে ফজরের পর থেকেই সোহরাওয়ার্দীমুখি আলেম-উলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোরে অনেকে ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি সমাবেশস্থলে চলে আসেন।

সকাল সাতটা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে বিভিন্ন রাস্তায় দেখা যায়, মিছিল নিয়ে আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্ররা আসছেন। এতে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে যানজট এড়াতে ট্রাফিকের পক্ষ থেকে আগেই দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। আজকের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাও করা হয়েছে স্থগিত।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ের মাস্টার্সের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়।

কওমি আলেমরা মনে করেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুগ্রহ। তিনি একক চেষ্টায় দেশের পিছিয়ে পড়া বড় একটি জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ জন্য কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আর এর প্রতিদান হিসেবেই তাকে সংবর্ধিত করতে চান আলেমরা। তবে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা নিতে বিব্রত বোধ করায় তার পরামর্শে আলেমরা এর নাম দিয়েছেন ‘শুকরানা মাহফিল’।

সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার আলেমদের একত্র হয়ে দেশের কোনো সরকারপ্রধানকে এ রকম সংবর্ধনা দেয়ার নজির নেই দেশে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একে আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে ২০ দলীয় জোটে থাকা আলেমদের একটি অংশ এই সংবর্ধনাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। মূলধারার শীর্ষ আলেমরা সংবর্ধনার পক্ষে থাকায় তারা নীরব থাকছেন।