আ.লীগের ‘সমর্থন’ ৬৪ শতাংশ, শেখ হাসিনার ৬৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। ওই জরিপ অনুযায়ী দেশের ৬৬ শতাংশ ভোটারই শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনা বেশি জনপ্রিয় বলেও তথ্য মিলেছে এতে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা গেছে ৬৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তার দলের চেয়ে দুই শতাংশ বেশি।

জরিপের এই ফলাফল সঠিক হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনে আওয়ামী লীগকে বেগ পেতে হবে না।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ টানা প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতায়। আর এই দুই মেয়াদে দেশে আর্থ সামাজিক ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করছে সরকার। এই সময়ে দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মাথাপিছু আয় ও বাজেটের আকার বৃদ্ধি, নানা মেগা প্রকল্প গ্রহণ, গড় আয়ু বাড়াসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে নানা অগ্রগতির প্রশংসা এসেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে।

এই সরকারের আমলেই নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং স্বল্পোন্ন দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আর আওয়ামী লীগ দাবি করছে, এই উন্নয়নের ফলে তাদের জনসমর্থন বেড়েছে। যদিও রাজনীতিতে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দাবি, সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে আর সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ বিএনপিকেই বেছে নেবে।

আইআরআই এর জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে হারে ভোট পেয়েছে, টানা নয় বছরের শাসনে তাদের অবস্থান আরও ভালো হয়েছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৪৯ শতাংশ এবং জোটগতভাবে ৫৭ শতাংশ ভোট পায়।

চলতি বছর পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চারটিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। অন্যদিকে একটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে পাঁচটিতেই অনায়াস জয় পেয়েছিল বিএনপি। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, এই নির্বাচনের ফলাফলই তাদের সমর্থন বৃদ্ধির প্রমাণ। যদিও বিএনপি এই ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছে।

জাতীয় নির্বাচনের বছরে গত ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মের মধ্যে জরিপ চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইআরআই। জরিপে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রবাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেওয়া হয়। এই গবেষণার জন্য পাঁচ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ ভোটার।

জরিপ অনুযায়ী সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও সেতুর উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক।

জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের মধ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫১ শতাংশ। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাঁদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোট অধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ ভাগ জানায়, আগামী নির্বাচনে তাঁরা ভোট দেবেন।

গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে।