ইউনাইটেডে খালেদার চিকিৎসার টাকা দেবে বিএনপি

বেগম খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে নিলে চিকিৎসার খরচের জন্য সরকারকে ভাবতে হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দর। দুই জনই বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সেখানে যত টাকা দরকার পড়বে, দেবেন তারা। আর সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী খালেদা জিয়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে যাবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত তারা জানাতে পারবেন না। গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়ার মার্চের শেষে অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়।

বিএনপি তার নেত্রীকে প্রথমে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেললে পরে অবস্থান পাল্টে ইউনাইটেডে নেয়ার দাবি করে তারা।

এর মধ্যে ৭ এপ্রিল একবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। আর ১০ জুন আবার আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এবার খালেদা জিয়া এই হাসপাতালে আসতে চাইছেন না।

এর মধ্যে ১১ জুন সংবাদ সম্মেলন করে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই। তবে সরকার চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে কারও চিকিৎসায় অনুমোদন দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে, কীভাবে করবে, তার ফয়সালা করতে হবে।’

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার বলেছেন, তারা বিএনপি নেত্রীকে সিএমএইচে যাওয়ার প্রস্তাব দেবেন।

তবে সরকারের এমন প্রস্তাব নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি নেত্রীর পরিবার এবং বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর সিএমএইচের ব্যাপারেও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নিজে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও একই পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা সে কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদনে বলেছি। এ ব্যাপারে যত খরচ তা আমরাই বহন করব।’

‘এখন যদি সরকার সিএমএইচের ব্যাপারে প্রস্তাব দেন সেটার বিষয়েও সিদ্ধান্ত বেগম খালেদা জিয়া নেবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলেন, ‘ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে সেখানে ভর্তি থেকে শুরু করে সব খরচ আমরা দল থেকে বহন করব।’

সিএমএইচ নিয়ে আপত্তি আছে কি না-জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, ‘আমরা চেয়ারপারসনের চিকিৎসা বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডের কথা বলেছি। সিএমএইচ তো বিশেষায়িত হাসপাতাল না। তারপরও যদি সিএমএইচের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা চেয়ারপারসন নেবেন। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

গত তিনদিন ধরে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল, কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আনা হবে। কিন্তু এখানে চিকিৎসা নিতে তার অনীহার কারণে হাসপাতালে আনা হয়নি।

এই অবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রেখে খালেদা জিয়ার যাবতীয় চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করতে আবেদন করেছেন।