ইয়াবা সেবনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আসছে

মাদক নিয়ন্ত্রণে যে নতুন আইন আসছে, তাতে ইয়াবা সেবনেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা সে খসড়া আইনে নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে আইনটির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

আইনে মাদক ছাড়া ধরা পড়লেও শাস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে ডোপ টেস্ট করে। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকছে না।

বর্তমানে মাদক মামলায় সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছর। এই আইনে ইয়াবার কথা উল্লেখ নেই।

সচিবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন, সেবন, বিপণন, উৎপাদন, অর্থদাতা বা পৃষ্ঠপোষকতা করলে  তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া যাবে।

তবে এর পরিমাণ পাঁচ গ্রামের নিচে হলে সর্বনিম্ন শাস্তি এক  বছর এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা যাবে। তবে এ আইনে অর্থের পরিমাণ উল্লেখ নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তবে হিরোইন, শিশা বা কোকেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা হবে ২৫ গ্রামের বেশি বহন, সেবন, বিপনন করলে।

যদি এর পরিমাণ ২৫ গ্রামের কম হয় তাহলে সর্বনিন্ম শাস্তি রাখা হয়েছে দুই বছর আর সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে ১০ বছর। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডও করা যাবে।

দেশে নানা ধরনের মাদক থাকলেও গত এক দশক ধরেই সরকারের দু্শ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়াবা বড়ি। প্রধানত মিয়ানমার থেকে আসা এই মাদকে আসক্তিই এখন সবচেয়ে বেশি।

সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি, যাদের শতকরা ৭০ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত। ফলে সরকার এখন ইয়াবা নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনটি এই সময়েই পাস করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যখন মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। গত মে থেকে শুরু করা এই অভিযানে আড়াইশরও বেশি সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে।

এ আইনে মূল হোতা অর্থাৎ ব্যাপকভাবে ব্যবসায়ীদেরও একই শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

এখন আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষঅর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রতিবেদন আসলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে এবং তা পাসের জন্য বিল আকারে তোলা হবে সংসদে।

ফলে সংসদের বর্তমান মেয়াদে এই আইনটি পাস হচ্ছে না, এটি নিশ্চিতই প্রায়।

সচিব জানান, বর্তমানে যে আইনটি রয়েছে, সেটি ১৯৯০ সালে করা হয়েছে। কিন্তু এখনকার বাস্তবতায় সেই আইনটি দিয়ে মাদক নির্মূল করা কঠিন। ফলে তা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাদকাসক্ত কি না শনাক্তে ডোপ টেস্ট 

খসড়া আইনে কেউ মাদকাসক্ত কি না, তা যাচাইয়ের জন্য ডোপ টেস্টের বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ মাদক ছাড়া ধরা পড়লেও শাস্তির সুযোগ থাকছে এই আইনে।

কেউ পরীক্ষায় পজেটিভ প্রমাণ হলে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের কথা বলা আছে।

০.৫ শতাংশ অ্যালকোহল থাকলে বিয়ার

খসড়া আইনে কোনো পানীয়তে ০.৫ শতাংশ অ্যালকোহল থাকলেই সেটিকে বিয়ার হিসেবে গণ্য করার কথা বলা আছে। এগুলো বিক্রি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।