ই-টোকেন ছাড়াই ভারতীয় ভিসার আবেদনপত্র জমা দেয়ার সুযোগ

নুরুল ইসলাম লিটন:: বন্ধু প্রতীম দেশ ভারতে গমনাগমনের জন্য বাংলাদেশীদের ভিসা প্রথা আরও সহজ করার লক্ষ্যে ই-টোকেন ছাড়াই যশোর-খুলনা অফিসে ভারতীয় ভিসা আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ হল। খুলনা বিভাগের পাসপোর্টধারীদের ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর ই- টোকেন লাগবে না।
আগামী ১১ জুন থেকে খুলনা এবং যশোরের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ই-টোকেন ছাড়াই পাসপোর্টধারীরা তাদের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। ভারতীয় ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঢাকার গুলশান উত্তরা এবং মতিঝিলের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ই-টোকেন প্রথা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে সারা দেশের আবেদন কেন্দ্র থেকে ই-টোকেন প্রথা তুলে দেওয়া হবে বলে ভারতীয় হাই কমিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
পূর্বে ভারতীয় ভিসার ই-টোকেন পদ্ধতিকে পুঁজি করে এক শ্রেণির সাইবার ক্যাফে ব্যবসায়ীরা ভারত গমনেচ্ছুক পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ই-টোকেন প্রাপ্তিতে পূর্বে ২ থেকে ৩ মাস সময় লেগে যেত। প্রতিটি পাসপোর্টের ই-টোকেনের বিপরীতে নির্ধারিত জমার দিন পাইয়ে দেওয়ার জন্য তারা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা গ্রহণ করত। কোন কোন ক্ষেত্রে দ্রুততার সাথে আবেদনপত্র জমার তারিখ পাইয়ে দিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকাও খরচ হত।
এ কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বা জরুরী প্রয়োজনে বাংলাদেশীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতে যেতে পারতো না। ভারতীয় ভিসার জন্য ই-টোকেন প্রথা বাতিল ও ভিসা সহজীকরণের জন্য খুলনার সাংবাদিক, চেম্বার এন্ড কমার্সের কর্মকর্তাসহ সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে খুলনায় আসা ভারতীয় হাই কমিশনারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। সে প্রেক্ষিতে ভারতীয় হাই কমিশন অফিস বিষয়টি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে উভয় দেশের সরকার দু-দেশের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সরাসরি বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে। খুলনা থেকে কলকাতায় সপ্তাহে ১ দিন বৃহস্পতিবার বন্ধন ট্রেন এবং প্রতিদিন শ্যামলী যাত্রী পরিবহনের বাস খুলনা-কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করে। ঢাকা কলকাতার মধ্যে সরাসরি মৈত্রী ট্রেন, বাস চলাচল করছে। ঢাকা-আগরতলা ও ত্রিপুরা-ঢাকা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।
পূর্বে ভারতীয় ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ই-টোকেনের মাধ্যমে নির্ধারিত দিনেই আবেদনপত্র জমা দিতে হতো। কিন্তু এখন থেকে যে কোন দিন ভারতীয় হাই কমিশন অফিসের নির্ধারিত ছুটির দিন বাদে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনা এবং যশোরের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আবেদনপত্র জমা দেয়া যাবে।
নিয়ম মত ই-টোকেন বাদে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রসহ অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র ফিস জমার পরে খুলনা এবং যশোর অফিসে জমা দেয়া যাবে। তবে অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্রের মেয়াদ থাকবে ৭ দিন। অর্থাৎ অনলাইনে ভারতীয় ভিসার আবেদন করলে তা’ ৭ দিনে মধ্যে ভারতীয় ভিসার আবেদন কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র যশোরের অফিস প্রধান বিপ্লব সাহা বলেন, ভারতীয় হাই কমিশন পর্যায় ক্রমে ই-টোকেন প্রথা তুলে দেবেন। আমরা আগামী ১১জুন থেকে ই-টোকেন ছাড়াই ভিসার আবেদনপত্র জমা নেব।
খুলনার মানুষের জন্য আরও সুখবর হলো আগামী আগষ্ট মাসের শেষ দিকে খুলনা থেকেই ভারতীয় ভিসা ইস্যু করা হতে পারে বলে একটি বিশ^স্ত সূত্র জানিয়েছে।