ঈদে এবারও বিশেষ ট্রেন বঞ্চিত খুলনাবাসী

প্রতি বছর ঈদ আসে, ঈদ যায়। ঈদ স্পেশাল ট্রেনের আশা পূরণ হয় না। স্পেশাল ট্রেনের দাবিতে প্রতি বছর খুলনাবাসী কর্মসূচি পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেয়া হয় স্মারকলিপি। এ সবকিছুর পরও এবার ঈদে বিশেষ ট্রেন না পেয়ে হতাশ হয়েছেন যাত্রীরা। জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়। এই সেবা চালু করা হয় ঠিকই। কিন্তু খুলনাবাসী বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে এই ট্রেন থেকে। বিশেষ ট্রেন চালুর দাবিতে খুলনাবাসী কর্মসূচি পালন করে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রতি বছর ঈদ আসে, ঈদ যায়। কিন্তু এ সবকিছুর সুফল থেকে বঞ্চিত হয় খুলনাবাসী। এ বছরও ঈদ উপলক্ষে যাত্রী বহনের জন্য সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো খুলনা-ঢাকা বা খুলনা থেকে অন্য কোনো রুটে নয়। এই ট্রেনের জন্য এবারও থেমে নেই দাবি আদায়ের কর্মসূচি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্মিলিত নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এসব কিছুর পরেও এবার খুলনাবাসী বঞ্চিত হয়েছে বিশেষ ট্রেন থেকে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তা। আর এই বঞ্চিতের খবরে হতাশ হয়েছেন ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
খুলনা থেকে ঢাকায় নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াতকারী আহসান আহমেদ রোডস্থ তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই ঈদের সময় বিশেষ ট্রেনের জন্য খুলনাবাসী সোচ্চার হয়। কিন্তু তা যেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে না।
খুলনায় সাউথ সেন্ট্রাল রোডে বসবাসকারী চাকরিজীবী শাহীন কবির বলেন, তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। প্রতি বছর ঈদে বাড়ি যেতে ট্রেনের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক কষ্ট করে গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়। খুলনাবাসী অন্য দাবি থেকে বঞ্চিত না হলেও বিশেষ ট্রেনের দাবি থেকে প্রতি বছরই বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা হতাশ হয়।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশেষ ট্রেনের জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশেষ ট্রেন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, খুলনায় বিশেষ ট্রেন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবারও খুলনায় কোনো বিশেষ ট্রেন দেয়া হয়নি। আর স্মারকলিপির ব্যাপারেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে কোনো নির্দেশনা পায়নি।