উন্নয়ন মেলায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের নানা সেবা, আজ সমাপনী

‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনাসহ দেশব্যাপী চলমান ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা শেষ হচ্ছে আজ। খুলনা সার্কিট হাউজের মেলা মাঠে গত দু’দিনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকান্ড প্রচারের পাশাপাশি দেয়া হয় গ্রাহকসেবা। বিশেষ করে মাধ্যমে দেশে চলমান সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্প, শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ ও দেশে বিদেশে এ সকল কার্যক্রমের স্বীকৃতি, পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ন্যায় মেগা প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানার সুযোগ পাচ্ছে। খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ১৫৬টি স্টলে তাদের সেবা দিচ্ছে।

মেলার দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সার্কিট হাউজের মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ-শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে এবং দেশে প্রযুক্তিমুখী শিক্ষাধারা চালু হওয়ায় তা সার্বিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এ দীর্ঘ সময় তৎকালীন সময়ে কোনো শিক্ষানীতি প্রণীত করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুই সর্বপ্রথম স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরত এ খুদা কমিশন গঠন করেন। এ কমিশন রিপোর্ট প্রদান করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর এ রিপোর্র্ট আর বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকেই উক্ত বিষয়ে কথা বলেন এবং ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরই এ বিষয়ে অনেকদূর অগ্রগতি হয়। কিন্ত ২০০০সালের পর ক্ষমতাবদল হলে তা আবারও অন্ধকারে চলে যায়। ২০০৯সালে ক্ষমতায় ফিরে তিনি পুনরায় বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন এবং তারই একান্ত আগ্রহ ও উদ্যোগের ফলে শেষ পর্যন্ত যুগোপযোগী একটি শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে যেখানে প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এরই মধ্যে গত দশ বছরে শিক্ষার সকল স্তরে নানামুখী প্রচেষ্টা ও প্রকল্প গ্রহণ এবং তা’ বাস্তবায়নের ফলে দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। নারী শিক্ষায় সমতার চেয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অবহেলিত মাদ্রাসা শিক্ষাও আজ মূল ধারায় সম্পৃক্ত হয়েছে। দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সরকারের এখন অভীষ্ট লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অ্যক্রিডিটেশন কাউন্সিলের আওতায় আসছে এবং ইতিমধ্যে হেকেপ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি উচ্চশিক্ষায় বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ এবং প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপ চালু করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী চাওয়ার চেয়ে বেশি দিয়ে থাকেন। এটা তার শিক্ষার প্রতি একান্ত আগ্রহের কারণ। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, মুখ্য আলোচক ছিলেন কেডিএর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম মাহমুদ হাসান।

মেলার শেষ দিনে আজ শনিবার সকাল ১০টায় উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রদর্শন এবং বিকেল সাড়ে চারটায় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব(এপিডি অনুবিভাগ) শেখ ইউসুফ হারুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান।
এদিকে, ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর স্টল থেকে নগরীর চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন সংযোগের আবেদন গ্রহণ ও বেশকিছু নতুন সংযোগ দেয়া হয়। মেলা স্টলে কোন গ্রাহক অভিযোগ দিলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। মেলার স্টল থেকেই গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ বিল প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত দু’দিনে ওজোপাডিকোর স্টল থেকে ৫৫ হাজার টাকার ভেন্ডিং সুবিধা প্রদান করা হয়েছে বলে ওজোপাডিকোলি:’র জনসংযোগ কর্মকর্তা কে.এম রেজাউল হক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত দু’দিনে মেলা থেকে ৪শ’টি নতুন সংযোগের আবেদন ও ৩৮৫টির সংযোগ দেয়া হয়।

বিআরটিএ, পাসপোর্ট, খুলনা ওয়াসা, রেলওয়েসহ অন্যান্য সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও দেয়া হয় তাদের সেবাগুলো।