একবার ডেঙ্গু হলেই সতর্ক হোন

একবার ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত পরের কয়েক বছর সেই রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।  এ কারণে কারো একবার ডেঙ্গু হলে পরবর্তীতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আর ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী মশার ডিম থেকে যেসব মশা জন্ম নেয় সেগুলোও ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে।

ডেঙ্গু মূলত শহর এলাকায় বেশি দেখা যায়। এর কারণ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার জলে জন্ম নেয় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা। শহরে, বিশেষ করে ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে বিভিন্ন ভাবে পরিষ্কার জল জমে থাকে। তাই ডেঙ্গু মশার জন্ম এবং রোগ ছড়ানোর পক্ষে আদর্শ পরিবেশ পায়।

ডেঙ্গু সাধারণত চার ধরনের হয়। আমাদের এখানে ‘টাইপ ওয়ান’ বেশি দেখা যায়। আর ‘টাইপ টু’ বা ‘টাইপ থ্রি’ হলে সেগুলো মারাত্মক হতে পারে। এই রোগের প্রকোপ যখন দেখা দেয়, তখন সাধারণত এক ধরণের জীবাণুই বেশি লক্ষ করা যায়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু মশার দেহে যায়। মশার খাদ্যনালীতে জীবাণু বংশ বৃদ্ধি করে। মশার খাদ্যনালী থেকে জীবাণু মশার ডিমেও সঞ্চারিত হয়। সেই মশা যে ডিম দেয় এবং তা থেকে যে মশা জন্মায় সেগুলো ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে। এ ধরনের মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু যায়।

সাধারণত মশা একবার কামড়ালে জীবাণু সংক্রমণ হয় না। মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন মশা বারবার কামড়ানোর সুযোগ পায় এবং তখনই ডেঙ্গুর জীবাণু সংক্রামিত হয়।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাসা বাড়ি বা আশেপাশে জমে থাকা পানি এবং আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণ জনগনকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থেকে বাঁচতে এবং এ বিষয় নিয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শেখর চক্রবর্তীর। তার চুম্বকাংশ ঢাকাটাইমস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

ডেঙ্গুর উপসর্গ

জ্বর। মাথাব্যথা। সঙ্গে গা হাত পা ব্যথা, বিশেষ করে হাঁটু, কনুইয়ের মতো জায়গায় ব্যথা করা। জয়েন্ট পেন বা অস্থিসন্ধিগুলোতে যন্ত্রণা ও বমি বমি ভাব। পেটের অসুখও হয়।

উপসর্গ দেখা দিলে যা করবেন

সব ক্ষেত্রে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন তেমন ব্যাপার নেই। জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনও জ্বরের ওষুধ না খাওয়া উচিৎ। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা

মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো জরুরী। দিনের বেলাতেও ঘুমোনোর সময় মশারি টাঙাতে হবে।

ডেঙ্গুর মশা ভোরে এবং সন্ধ্যায় কামড়ায়। ওই সময়ে শরীর ঢাকা পড়ে এমন পোশাক পড়া দরকার।

বাড়ির ভিতরে এবং আশেপাশে জমা জল পরিষ্কার করতে হবে।

ডেঙ্গু হলে যা করবেন:

ডেঙ্গু হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

চিকিৎসক পরামর্শ দিলেই হাসপাতালে ভর্তি হোন।

বেশি করে পানি পান করতে হবে।

বাড়িতে থাকলেও বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

রক্ত চাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করে প্লেটলেট কমছে কি না খেয়াল রাখা জরুরি।

প্লেটলেট নির্দিষ্ট সীমার নীচে নেমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্লেটলেট দিতে হবে।

ডেঙ্গু হলে যা করা যাবে না:

জ্বর হলে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া চলবে না।

প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনও জ্বরের ওষুধ একেবারেই খাওয়া চলবে না।

হৃদরোগী ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে জ্বরে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না।