এবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চিকিৎসকসহ ৪জনের

সড়কে মৃত্যুর মিছিল কোনভাবেই থামছে না। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন চিকিৎসকসহ ৪জনের প্রাণ গেলো। সোমবার বিকেলে খুলনার ফুলতলায় দুই চিকিৎসক ও তাদের প্রাইভেটকার চালক এবং সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর এলাকায় একজন স্বাস্থ্য সহকারী নিহত হন। এদিকে সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার খুলনার সকল সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকবে। তবে শুধুমাত্র জরুরী চিকিৎসা সেবা চালু থাকবে। বুধবার সকাল ১০টায় নগরীর বিএমএ ভবনের সামনে থেকে বিএমএ, বিপিএমপিএ ও বিপিসিডিওএ যৌথভাবে শোক র‌্যালীর মাধ্যমে শহীদ হাদিস পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করবে।
আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা ও ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি (ফুলতলা, খুলনা) জানান, খুলনার ফুলতলা উপজেলার খুলনা-যশোর মহাসড়কের রাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে বাস প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রাইভেট কার অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার বিকেলে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের সাথে যশোরগামী প্রাইভেটকার মুখোমুখী সংঘর্ষে প্রাইভেটকার আরোহী ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহাদাৎ হোসেন (৬৪) ও ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন (৬২) এবং প্রাইভেটকার চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। ডা. শাহাদাৎ হোসেন খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা করিম নগরের মৃত মাজেদ আলীর পুত্র, ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন সাউথ সেন্ট্রাল রোডের মৃত আব্দুল ওয়াহেদের পুত্র এবং প্রাইভেট কার চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খালিশপুর উত্তর মুজগন্নী এলাকার মাহাবুবুর রহমানের পুত্র।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এ.টি.এম মঞ্জুর মোর্শেদ ও ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ৪ টায় যশোরগামী প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ- ১৩-৬৮৭০) ও খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের রাসেল নামের একটি বাস (রাজ মেট্রো- ব- ১১-০০৩৮) ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা এলাকার রাড়িপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে পৌঁছলে মুখোমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় প্রাইভেট কার আরোহী ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন (৬২), ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (৬০) ও প্রাইভেট কারের চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৭) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন ও ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রথম নামাজে জানাজা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিকভাবে নামাজে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন নগরীর কিওর হোম নামক একটি বেসরকারী হাসপাতালের মালিক এবং ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন।
এদিকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা (চুকনগর, খুলনা) জানান, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে আবারও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক যুবকের। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে চুকনগর-যশোর মহাসড়কের নুরানিয়া এনডিএস দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে যশোরের কেশবপুর উপজেলাধীন আড়–য়া গ্রামের নজরুল ইসলাম গাজীর পুত্র সুফলাকাঠি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী মাযহারুল ইসলাম জাহিদ (৩৫) মোটরসাইকেল যোগে চুকনগর থেকে কেশবপুর অভিমুখে যাচ্ছিলেন। একই দিক থেকে দ্রুত গতি সম্পন্ন একটি জ্বালানী তেলবাহী লরি যশোরে যাবার সময় পিছন দিক থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে মাযহারুল রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। এসময় তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনায় নেয়ার পথে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তেলবাহী লরিটি পালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় তার নম্বর সনাক্ত করা যায়নি। উল্লেখ্য, মাত্র ১সপ্তাহ পূর্বে একই স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে এক মহিলা নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়।