ওজন কমাতে দুধ!

প্রায়ই শোনা যায় ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই দুগ্ধজাত খাবার পরিহার করতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। ভারতের ন্যাশনাল ডায়াবেটিস এন্ড ডাইজেস্টিভ এন্ড কিডনি ডিজিস এর মতে, সবার মধ্যে ধারণা রয়েছে যে ওজন কমাতে চাইলে দুধ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কম চর্বিযুক্ত বা চর্বিবিহীন দুধ বা এ জাতীয় দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, এবং প্রোটিন থাকে। এগুলোতে চর্বি বা ক্যালোরি থাকে না বলেই চলে। ওজন কমাতে দুধ কীভাবে সাহায্য করে? বেশকিছু গবেষণায় প্রমাণিত যে, ওজন কমানোর দাওয়াই হিসেবে কম চর্বিযুক্ত দুধ বেশ উপকারী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ননীযুক্ত দুধে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে। এটি অন্যান্য বেভারেজ যেমন- সোডা, চা এবং এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে কম ক্যালোরি সরবরাহ করে। এতে থাকা প্রোটিন উপাদান অনেকক্ষণ আপনার পেট ভর্তি রাখে এবং ক্ষুধামন্দা দূর করে।

দুধ শরীরে শক্তি জোগায়। এতে করে ব্যায়ামের সময় শরীরে এনার্জি পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে দুধ পানে ব্যায়ামের সময় বেশি এনার্জি পাওয়া যায়। ব্যায়ামের ফলে পেশীর উন্নতি হয়, চর্বি কমে এবং শরীরের পেশী মজবুত হয়।

যারা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, তাদের ক্যালোরি কম গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনে যতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করছেন দিনশেষে সেটুকু ঝেড়ে ফেলতে পারলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এ কারণে কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার হিসেবে দুধ খেতে পারেন। এতে যেমন অন্যান্য প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করবে তেমনি ক্যালোরির মাত্রাও কম থাকবে।

যদি আপনি খাদ্যতালিকায় ডেইরি মিল্ক বেছে নিলে চর্বিহীন দুধ বেছে নেওয়া উচিত। কারণ এক কাপ দুধে ১৫০ ক্যালোরি থাকে আর ননফ্যাট দুধে এর পরিমাণ মাত্র ৮৩ ক্যালোরি। ডেইরি মিল্কের বিকল্প হিসেবে মিষ্টিবিহীন সয়মিল্ক নিতে পারেন। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত এই দুধ ওজন কমানোর ভালো উপাদান। আলমন্ড মিল্ক স্বাস্থ্যসম্মত তবে এটি পান করার পর পরই ক্ষুধা অনুভূত হবে।

ওজন কমানোর জন্য কোন ধরনের দুধ আপনি বেছে নিচ্ছেন এটা বিষয় নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য এটি অবশ্যই খেতে হবে। তবে শরীর হাইড্রেটেড রাখার জন্য পানির বিকল্প নেই। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার মাধ্যমে ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় পানিই সর্বোত্তম উপাদান। এমনকি সুস্বাস্থ্যের জন্যও প্রচুর পানি পান করা জরুরি।