করলার জুসে কমবে ওজন

অফিস, খাওয়া আর ঘুম। সিরাজের এভাবেই চলছিলো, কিন্তু সম্প্রতি দেখা দিয়েছে সমস্যা। কারণ খুব দ্রুত ওজন বেড়ে যাচ্ছে তার। জিমে যাওয়া বা ব্যায়াম করতে অলসতা লাগে আবার সময়ও পাওয়া যায় না। ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ডায়েট করা বা খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলেও তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। তাদের জন্য  সুখবর হলো- শুধুমাত্র করলার জুস নিয়মিত খেলেই উল্লেখযোগ্য হারে ওজন কমে।

ওজন কমানো ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন উপকার করে করলার রস। করলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। মধু মিশিয়ে করলার জুস খেলে হজম শক্তি বাড়ে। তাছাড়া এতে রয়েছে ফাইবার, যা পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে।

বিজ্ঞান সাময়ীকি ‘বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  করলা খুব দ্রুত দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে। করলার রস দিয়ে হেলথ ড্রিঙ্ক বানিয়ে খেলে কাজ হয় খুব তাড়াতাড়ি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করলার রস ফ্যাট সেলগুলো বার্ন করে এবং সেই জায়গায় নতুন ফ্যাট সেল তৈরি হতে বাধা দেয়। ডায়বিটিস রোগীদের জন্যও করলার রস খুব উপকারি।

করলার মধ্যে রয়েছে পলিপেপটাইড বি, ভিসিন এবং ক্যারাটিন। প্রতিদিনের ডায়েটে করলার জুস রাখলে উচ্চরক্তচাপ কমে। রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিজ্ঞান সাময়ীকি ‘কারসিনোজেনেসিস’ ও ‘পাবমেড’ জানিয়েছে, করলার জুস অগ্নাশয়ের ক্যানসার রোধ করে। ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষগুলিকে নির্মূল করে। স্তন ক্যানসার রোধে করলার জুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া হাঁপানি এবং ফুসফুসের যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করে করলার জুস। নিয়মিত করলার জুস খেলে ত্বক অনেক টানটান এবং তরতাজা দেখায়। বলিরেখা দূর হয়।

যেভাবে বানাবেন করলার জুস:

ভালো করে ধুয়ে নিয়ে করলা ছোট ছোট করে কাটুন। তারপর তা ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করুন। আর ব্লেন্ডার না থাকলে বেটেও রস করতে পারেন। তেতো খেতে অসুবিধা হলে বা বেশি তেতো হলে তার সাথে কাচা খাওয়ার যোগ্য কিছু সবজিও এর সাথে মেশাতে পারেন। রস হয়ে গেলে ছাকনি দিয়ে ছেকে গ্লাসে নিয়ে তার মধ্যে কয়েক ফোটা মধু দিয়ে পান করুন। প্রতিদিন সকালে এটি পান করলে উপকার পাবেন।