কাউন্সিলর পদে আ.লীগের প্রার্থী বাছাই শেষ, বিএনপির শুরু আজ

এ এইচ হিমালয়:: খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। গত দুই দিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩ সদস্যের প্যানেল চূড়ান্ত করেছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই তালিকা যাচাই-বাছাই এবং মনোনয়নের সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
এদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় সমর্থনের জন্য ৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার ও কাল শুক্রবার সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেবে দলটি। এরপর আগামী ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি।
অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে খুলনায় এককভাবে প্রার্থী দিচ্ছে জামায়াত। নগরীর ৫টি ওয়ার্ডে তাদের প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। প্রচারণার মাঠে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীররাও। সেই তুলনায় দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই জাতীয় পার্টির।
সূত্রটি জানায়, গত ২০১৩ সালের নির্বাচনে নগরীর ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টিতে বিএনপি, ৮টিতে আওয়ামী লীগ, একটি জামায়াত এবং বাকিগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
আ.লীগ প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব আজ : আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম বুধবার শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহাগ জানান, গত ৩ ও ৪ মার্চ প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে একটি প্যানেল মহানগরীতে জমা দিয়েছে। বেশিরভাগ ওয়ার্ড থেকেই গুরুত্ব বিবেচনায় ক্রমানুসারে তিন জনের নাম ও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। আজকের সভায় ওয়ার্ড কমিটির সুপারিশের সঙ্গে নগর নেতাদের সুপারিশ যোগ করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র থেকে প্রার্থী প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে দিবে।
বিএনপির কার্যক্রম শুরু : প্রার্থীদের দলীয় সমর্থনের জন্য ৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করেছে বিএনপি। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে চেয়ারম্যান করে বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন-শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, মোঃ ফকরুল আলম ও অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম।
নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে প্রার্থীদের আবেদনপত্র নেওয়া হবে। ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল মনোনয়ন বোর্ড ও আবেদনকারীদের সাক্ষাতকার নিবে। খুলনা থেকেই একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
৫ ওয়ার্ডে জামায়াতের প্রার্থী : বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনের কথা বললেও একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে জামায়াত। এবার ৫টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী দিচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে।
এবার তাদের প্রার্থীরা হচ্ছে ১নং ওয়ার্ডে আজিজুর রহমান স্বপন, ৩নং ওয়ার্ডে আবদুস সালাম, ১২নং ওয়ার্ডে মাস্টার শফিকুল আলম, ১৯নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না এবং ৩১নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল। এর মধ্যে হেলাল বর্তমান কাউন্সিলর।
মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, জোটগত নির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। গতবছর থেকেই কাউন্সিলর পদে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করছে। এবারও ৫টি ওয়ার্ডে আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচন করবে। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও এই ৫টি ওয়ার্ডে আমাদের প্রার্থী থাকবে।
তৎপরতা নেই জাতীয় পার্টির : এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করলেও কেসিসি নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি জাতীয় পার্টির। বিগত দিনে কাউন্সিলর পদে দলটির কেউ নির্বাচিত হয়নি। এবছর ১০টি ওয়ার্ডে তাদের প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও গতকাল বুধবার পর্যন্ত কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। দলটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুইজনই ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে নগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সুনীল শুভ রায় বলেন, দু’একদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আমরা বসবো। সদস্য সচিব ও মেয়র প্রার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়রসহ ১০টি কাউন্সিলর পদে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে লড়বে। শুক্রবার খুলনায় এসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রচারণায় এগিয়ে ইসলামী আন্দোলন : প্রায় একবছরেরও বেশি সময় আগে প্রার্থী ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছেন। প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন তারা।