কারণ ছাড়া সিজার করলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ

অপ্রয়োজনে কোনো গর্ভবতী মায়ের সিজারের ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রাইভেট হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে সিজারের হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের বেশি। এটা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। রোববার সচিবালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সিজার অপারেশন বেড়ে গেছে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। এটা কমাতে আমরা ইতোমধ্যে একটি ফরম করেছি। যদি কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার হয় তাহলে তার বিষয়ে বিস্তারিত জবাবদিহি করতে হবে।’

‘এক্ষেত্রে রোগীর কোন কোন সমস্যার কারণে সিজার করা হলো তা উল্লেখ করতে হবে।’

‘অপ্রয়োজনে কোনো প্রতিষ্ঠান সিজার করলে প্রয়োজনে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। সিজার অপারেশন করলে একজন মায়ের নানা ধরণের ক্ষতি হয়। তাকে দুর্বল করে দেওয়া হয়।’

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, প্রতিবছরের মতো আগামীকাল সোমবার নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করবে সরকার। এ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে সকালে একটি শোভাযাত্রা ও বিকেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

‘নিরাপদ মাতৃত্ব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কমিউনিটি ক্লিনিক। এখানে মায়েরা সেবা নিয়ে থাকেন।’

‘সারাদেশে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার রয়েছে প্রায় ৪ হাজার। সেখানে প্রসব কার্যক্রম সহ নানা কাজ হয়ে থাকে। এমসিডব্লিউসিগুলোতে সিজারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং নরমাল প্রসবের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিরাপদ প্রসব পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

‘আমাদের প্রায় ৩০ হাজার স্যাটেলাইট ক্লিনিক রয়েছে। যার মাধ্যমে মায়েদের নানা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এই ক্লিনিকের কর্মীরা শুধুমাত্র ক্লিনিকে বসে থাকেন না বরং তারা মায়েদের নিকট চলে যান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।’

‘মায়েদের বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রয়েছে। সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতাও দিয়ে থাকে। এটা ভাল কাজ দিচ্ছে। আমরা তিন হাজার মেডিক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছি।’

‘আমরা ইতোমধ্যে ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। এটা নিরাপদ মাতৃত্বে ভাল ভূমিকা রাখবে। এখন আমরা মায়ের নিরাপদ মাতৃত্বের ক্ষেত্রে ৬ মাসের ছুটির ব্যবস্থা করেছি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ব্রেষ্ট ফিডিং কর্ণার নির্মাণ করেছি। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা বাধ্য করছি এ ধরণের উদ্যোগ নিতে।’