কিডনিতে পাথর বুঝবেন কীভাবে

কিডনিতে পাথর হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি; প্রস্রাবে বিভিন্ন মাত্রায় লবণের আধিক্য; গরম আবহাওয়া; হরমোনের অসমতার কারণে প্রস্রাবে সাইট্রেটের পরিমাণ কমে যাওয়া; মূত্রথলিতে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রস্রাব না হওয়া; প্রস্রাবের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা; দীর্ঘদিন নড়াচড়া না করা; কিডনিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও সংক্রমণÑ এসব প্রধান কারণ।

শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর কিডনিতে পাথর হয় ৩০-৫০ বছর বয়সে। নারীদের চেয়ে পুরুষদের পাথর হওয়ার ঘটনা কিছুটা বেশি। সব পাথর উপসর্গ তৈরি করে না। ফসফেট পাথর সাধারণত নীরব থাকে। এ পাথর আকারে খুব বড় হলে কিডনির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেবল তখনই উপসর্গ দেখা দেয়। কিডনিতে পাথর হলে শতকরা ৭৫ ভাগ ক্ষেত্রে রোগী ব্যথা এবং প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার কথা বলেন। সংক্রমণ থাকলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

কিডনি পাথরের ব্যথা নির্ভর করে পাথরের অবস্থানের ওপর। পাথর যদি কিডনিতে থাকে, তা হলে ব্যথা অনুভূত হয় পিঠে, পাঁজরের ঠিক নিচে। এ ব্যথা পেছন থেকে সামনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাঁটাচলায় ব্যথা বেড়ে যায়। বিশেষ করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ব্যথা তীব্র হয়।

কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন- প্রচুর পরিমাণে তরল খেতে হবে; যেসব অসুখে কিডনিতে পাথর হতে পারে তার চিকিৎসা করতে হবে; দুধ, পনির ও উচ্চ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে; রেডমিট, মাছ প্রভৃতি উচ্চ পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।