কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় কলেজ ছাত্র তুহিন হত্যার দায়ে একই পরিবারের তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় ঘোষণা করেন।

দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুমারখালী উপজেলার চরবানিয়াপাড়া গ্রামের মেজবার রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জনা খাতুন এবং ছেলে রইচ উদ্দিন। এদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ছেলে রইচ উদ্দিন পলাতক। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি আবু সাইদ এবং সেলিম রেজাকে বেকশুর খালাস দিয়েছে আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় পারিবারিক জায়গা জমি ভাগাভাগি সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। তুহিন নামে এক যুবক তা ঠেকাতে গেলে আসামিরা তুহিনের উপর চড়াও হন। তার বুকের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুঁপিয়ে জখম করেন। স্থানীয়রা তুহিনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা সহিদুল মোল্লা বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে পাঁচ জনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে ৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। আদালত ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুনানি শুরু করে।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, ‘পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানি শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।’