কুয়াকাটা সাজছে নতুন রূপে

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন এবং নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজাতে নতুন মেগাপ্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, চূড়ান্ত হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানও। এর মাধ্যমে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই ক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করতে পারেন সৌন্দর্য পিপাসুরা। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতের কিনার ঘেঁষে রয়েছে সবুজের আচ্ছাদন। নারকেল বাগান, ঝাউবিথী ছাড়াও পশ্চিম ও পূর্বদিকে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আরেক সৌন্দর্যময় স্থান।

দেশকে বিশ্বের দরবারে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় কুয়াকাটায় থাকবে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, প্লে-গ্রাউন্ড, কনভেনশন সেন্টার, বিমানবন্দর, ওয়াচ টাওয়ার, আধুনিক হাসপাতাল, সুপার মার্কেট, সরকারি-আধা সরকারি সব অফিস, মিউজিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, দর্শনীয় শহীদ মিনার, হেলিপ্যাড, হিস্টোরিক সাইট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, বিশেষ মার্কেট, ইকোপার্ক, মৎস্য মার্কেট, মেরিন পার্ক, মেরিন ড্রাইভ, টেনিস পার্ক এবং সাবজেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দশকে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পর্যটনশিল্পকে সরকার সমৃদ্ধ করেছে। মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই দুই মেয়াদে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার অংশে তিন নদীতে তিনটি আধুনিক সেতু নির্মিত হয়েছে। বিকল্প পথে কুয়াকাটায় যেতে বালিয়াতলী পয়েন্টে আন্ধারমানিক নদীতে ৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৭৭ মিটার দীর্ঘ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর নির্মাণকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। লতাচাপলি মৌজার ১০ হাজার ২৭৯ একর জমিও সংরক্ষিত জোনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্পদ ও জীবন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সাগরঘেঁষা কলাপাড়ার লতাচাপযল ও ধুলাসার দুই ইউনিয়নসহ কুয়াকাটা পৌর এলাকায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। বাঁধটির আধুনিকায়নের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য থাকছে ওয়াকিং জোন এবং তাদের বিশ্রামের জন্য পাশেই থাকছে বড় বড় বেঞ্চের মতো সিসি-ব্লক।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, এখন খাসজমির দখলদারদেরও উচ্ছেদ করে এসব জমিতে নির্মিত হবে বিভিন্ন স্থাপনা। আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে কুয়াকাটাগামী মহাসড়কের তুলাতলী থেকে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি পর্যন্ত দুই লেনের উন্নত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকায় যেকোনো ধরনের ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা-ডিজাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব নকশা-ডিজাইন অনুমোদন করলেই ভবন নির্মাণের অনুমতি পাবেন উদ্যোক্তারা।

পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এই মহাযজ্ঞের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তার আগেই কুয়াকাটা পৌরসভার খালসহ খাসজমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খাল দখল করে নির্মিত পাঁচটি স্থাপনাও অপসারণ করবে জেলা প্রশাসন।

কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে এখানে পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতিতে দেশি-বিদেশি আরও অসংখ্য পর্যটকও উপভোগ করতে পারবেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বলে মনে করছেন কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।