কেসিসি নির্বাচন : ওয়ার্ড নম্বর-২৫ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা

এইচ এম আলাউদ্দিন:: আগামী ১১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত কেসিসির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিতরণ করা হবে স্মার্ট কার্ড। বর্তমানে চলছে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তৎপরতা। দাখিলের শেষ দিন ১২ এপ্রিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে কেসিসির ৩১টির মধ্যে পাঁচটি ও ইসলামী আন্দোলন ২৩টি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও জাতীয় পার্টিও প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেয়ার কথা ভাবছে। ইতোমধ্যে তারা ২২টি ওয়ার্ডে প্রার্থীতা চূড়ান্ত করেছে বলে শোনা গেছে। তবে বড় দু’টি দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে চলছে প্রার্থী বাছাই পর্ব। দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় এ দু’টি দলের একাধিক নেতা ইতোমধ্যেই দলের কাছে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা। বর্তমান কাউন্সিলরসহ দু’জন প্রার্থী গতকাল নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের আপাতত: একক প্রার্থীর কথা শোনা গেলেও দলের আরও তিনজন দলীয় মনোনয়নের জন্য মহানগর কমিটির কাছে নিজেদের জীবন-বৃত্তান্ত দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন বিএনপিরও চারজন। এ ওয়ার্ডে নেই কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সব মিলিয়ে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয় জনে। যার মধ্যে রয়েছেন আওয়ামীলীগ-বিএনপি সমান সমান অর্থাৎ চারজন করে এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন।
বসুপাড়া কবরখানাসহ এ ওয়ার্ডের আওতাধীন এলাকাসমূহের মধ্যে বানরগাতি বাজার, গল্লামারীর একাংশ, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, শহীদ সোরাওয়ার্দী কলেজ, সিটি গার্লস্ কলেজ, দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, সিদ্দিকীয়া মহিলা কামিল মাদরাসা, নজরুল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য।
মো: আলী আকবর টিপু ঃ নগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো: আলী আকবর টিপু পর পর দু’টি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হন। বিজয়ী হন বিপুল ভোটে। এমনকি বিএনপির দু’প্রার্থী মিলে যে ভোট পান তার চেয়েও প্রায় দু’হাজার ভোট বেশি পান গত নির্বাচনে। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার আমলেই এ ওয়ার্ডে হয়েছে আধুনিক কাউন্সিলর ভবন কাম কমিউনিটি সেন্টার। নাম দেয়া হয়েছে নাগরিক ভবন। এছাড়া লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে ৫তলা ভবন করে নাম দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৫ তলা ভবন করে নাম দেয়া হয়েছে শামসুর রহমান মানি ভবন। লায়ন্স স্কুলের মাঠ সংস্কার করে সেখানে ঈদের জামাত হচ্ছে। প্রতি লাইলাতুল বরাতের রাতে বিশেষ দোয়া মাহফিল করা হয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে। কেসিসিতে কাউন্সিলর গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট তিনিই প্রবর্তন করেছেন। ১০ বছর আগে যখন তিনি দায়িত্ব নেন তখন ওয়ার্ডের কোন রাস্তাই চলাচলের উপযোগী ছিলনা উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই সময় রিক্সাচালকরা পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে আসতে রাজী হত না। কিন্তু এখন সব রাস্তাই ভাল। ইসলাম কমিশনারের মোড় হতে আলামিন মসজিদ পর্যন্ত একটি রাস্তা ছাড়া ওয়ার্ডের অন্য কোন রাস্তাই খারাপ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ২১টি ছোট গলির সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে। এডিবি’র অর্থে এ রাস্তাগুলো হবে। স্বাস্থ্যসেবার আমুল পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ওয়ার্ডে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার নেই। শিক্ষাক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। তবে সারাদেশের ন্যায় এ ওয়ার্ডেও পানি সংকট রয়েছে। এজন্য সোলায়মান নগর পার্কের কাছে, বানরগাতি কৃষ্ণ’র মোড়, আরামবাগ খ্রীষ্টান কলোনী এলাকায় সাব মার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। সিদ্দিকীয়া মাদরাসা ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে পাম্প বসানোর কাজ চলছে। বানরগাতি ও সোলায়মান নগরে মিনি প্রোডাকশন টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীণ ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতায় কোন প্রকার পক্ষপাতিত্ব করা হয়না। শুধুমাত্র মশাকেই এই মুহূর্তে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর কারনও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কোন মেয়রই এর সমাধান দিতে পারেননি। এজন্য প্রয়োজন বাড়ি বাড়ি থেকে গৃহস্থলী বর্জ্য সংগ্রহ। ওয়ার্ডের পরিচিতি গেট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রধানমন্ত্রীর জেলাভিত্তিক মডেল মসজিদ নির্মাণসহ আরও বেশকিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের দোয়া ও আশির্বাদ নিয়ে আবারো বিজয়ের ব্যাপারেও পূর্ণ আশাবাদী।
মো: তৈয়বুর রহমান ঃ বিগত নির্বাচনে ভোটের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো: তৈয়বুর রহমান। গত নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চান। গতবার যেহেতু বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন সেহেতু এবার তার দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্য বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে ওয়ার্ডে বৃষ্টির সময় প্রচন্ড জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অন্যান্য ওয়ার্ডের ন্যায় এ ওয়ার্ডেও মশার উপদ্রব রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি। রাস্তাঘাটও খুব যে একটা ভাল তাও নয়। ড্রেন অপরিষ্কার ও জলাবদ্ধতার কারণে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক হিসেবে এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যথাযথ নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারছে না বলেও জানান তিনি। তিনি নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এক কথায় নাগরিক সুবিধা যতটুকু দেয়া দরকার সেটুকুই দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
শেখ নজরুল ইসলাম বাবু ঃ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম বাবু গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, মশা, পানি, মাদক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতাসহ অনেক নাগরিক সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পেও চলছে পক্ষপাতিত্ব। সমন্বয়হীনতার কারণেই সঠিক পরিকল্পনামাফিক কাজ হয়না ওয়ার্ডে। তিনি নির্বাচিত হলে আধুনিক পার্ক স্থাপন, পুকুর সংরক্ষণসহ চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ই-স্বাস্থ্যসেবা চালু, হটলাইন প্রবর্তন, ই-মেইলের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান এবং মাদক নির্মুলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
মো: আ: কাইয়ুম গোরা ঃ সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি, সাধারণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক এবং দারুস সালাম-দারুল আমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো: আ: কাইয়ুম গোরা আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে মহানগর দলের কাছে আবেদন করেছেন। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই তিনি নির্বাচনী কাজ করবেন বলেও জানান। বর্তমান কাউন্সিলর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ রাস্তাঘাটই আজ ভাল। তার পরেও বর্তমান কাউন্সিলর কোন কারনে নির্বাচন থেকে পিছিয়ে গেলে তিনি সামনে আসবেন। তিনি নিজেকে স্কুল-কলেজগুলোর চৌকিদার উল্লেখ করে বলেন, বখাটেরা যাতে ছাত্রীদের উত্যক্ত না করতে পারে সেদিকে তার নজরদারি রয়েছে। মাদককেও তারা ইতোমধ্যে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও জানান। লায়ন্স স্কুল মাঠ ছাড়া ওয়ার্ডে তেমন কোন খেলার মাঠ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরও কিছু মাঠ প্রয়োজন। তিনি আওয়ামী পরিবারের একজন সক্রিয় সদস্য উল্লেখ করে বলেন, নিজে যেমন দলের পেছনে শ্রম দেন তেমনি তার পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাই নগর আওয়ামীলীগের সদস্য। সুতরাং আলী আকবর টিপুর পর কেউ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার হলে তিনিই অগ্রাধিকার পাবেন।
মো: রেজাউল কবির ঃ নগর যুব শ্রমিক লীগের আহবায়ক মো: রেজাউল কবিরও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন চান। ইতোমধ্যে তিনি দলের কাছে তার জীবন-বৃত্তান্ত দিয়েছেন। ওয়ার্ডের আরামবাগ, ইসলাম কমিশনারের মোড়, ঋষিপাড়াসহ কিছু এলাকায় এখনও মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা চলছে বলে জানান তিনি। এছাড়া নিরীহ মানুষ অনেক সময় পুলিশ ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়। এর বিরুদ্ধে তার অবস্থান বরাবরই ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। দারিদ্র বিমোচনেও পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন। ২৪ ঘন্টা নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়েই তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে চান। তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডে মাদক নামের কোন বস্তু থাকবে না। ইভটিজিং নির্মূল করা হবে। এক কথায় ওয়ার্ডবাসী যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেদিকে তার নজর থাকবে। দূর করা হবে সুপেয় পানি সংকটও। তবে সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি থাকবেন অটল। দল যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই তিনিও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
শেখ শহীদ আলী ঃ নগর যুবলীগের সদস্য ও সোনাডাঙ্গা থানা শাখার যুগ্ম আহবায়ক শেখ শহীদ আলীও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। গত নির্বাচনে তকে কথা দেয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। এজন্য তিনি এবার মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। ইতোমধ্যে তিনি দলের কাছে তার জীবন-বৃত্তান্ত দিয়েছেন। তিনি দলের জন্য নিবেদিত বলেও উল্লেখ করেন। এজন্য বর্তমান কাউন্সিলর ও দলীয় নেতৃবৃন্দ এবার তার মনোনয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন বলেও তিনি আশা করছেন। তার মতে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় সমস্যা মাদক। এতে অল্প বয়সী ছেলেরা বিপথগামী হচ্ছে। বসুপাড়া এতিমখানা, আজাদ লন্ডির মোড়সহ কিছু এলাকায় মাদক বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি। চলছে নিরব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও। পুলিশকে সাথে নিয়ে এ ওয়ার্ডকে তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে চান। রাস্তাঘাটের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে রাস্তাটি পর্যন্ত সংস্কার হয়নি। এ থেকেই পুরো ওয়ার্ডের চিত্র মিলবে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন কিছু রাস্তা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। বৃষ্টির সময় সোলায়মান নগর, বানরগাতি, আরামবাগসহ বেশিরভাগ জায়গা ডুবে যায়। মানুষের জীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মাদক-সন্ত্রাস দূর করতে ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এটি করবেন। যেহেতু আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সেহেতু সবচেয়ে বেশি বাজেটের ওয়ার্ড হবে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ২১টি মসজিদ, ছয়টি মন্দির, একটি গীর্জা আছে। সব ধর্মের মানুষের ওপর সমান নজর রাখা হবে। এক কথায় সবকিছু উপেক্ষা করে তিনি নিজেকে জনসেবায় নিয়োজিত রাখবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কার্যক্রম থাকবে ডিজিটাল। মোড়ে মোড়ে বুথ থাকবে। আইডি কার্ড যাচাই করে নাগরিক সনদপত্র পৌঁছে দেয়া হবে বাড়িতে। থাকবে স্কুল-কলেজে খেলার মাঠও। এক কথায় একটি পরিপূর্ণ ডিজিটাল ওয়ার্ড হবে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড।
আনিসুর রহমান আরজু ঃ ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আরজু দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এবার প্রার্থী হতে চান। এজন্য তিনি ওয়ার্ড এলাকায় বিভিন্ন প্রচারনা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ স্মার্ট কার্ড বিতরণকে সামনে রেখেও তিনি ইতোমধ্যে ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায় প্যানা টানিয়েছেন। ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মশার উপদ্রব চরমে। দুর্বল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য এটি হচ্ছে। ডাষ্টবিনের পাশে ময়লা ফেলায় অনেক সময় রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। চলাচল করাও দুরুহ হয়ে পড়ে। মাদকের প্রভাবও রয়ে গেছে। কবরস্থানেরও যথাযথ ব্যবস্থাপনা হচ্ছেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় সন্ধ্যার পর ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয় বসুপাড়া কবরখানা। নেই পর্যাপ্ত লাইটও। তিনি নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করে যুব সমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে রাখা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে থাকবে জিরো টলারেন্স। নিশ্চিত করা হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও।
মো: মিজানুর রশীদ মিজান ঃ সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মো: মিজানুর রশীদ মিজান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব এবং বসুপাড়া কবরখানার উন্নয়নে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এসবের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। সেই সাথে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয় সেদিকেও নজর দেয়া হবে। ওয়ার্ড এলাকার ১৬টি মসজিদের নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে কাজে লাগিয়ে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড উপহার দেয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ এবং ভাড়াটিয়াদের ওপর নজরদারির মধ্যদিয়ে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়া সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন। মসজিদের খুৎবায় যাতে মাদকের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয় সেজন্যও ইমামদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। এক কথায় উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানই তার একমাত্র লক্ষ্য।
মো: ইমরান হোসেন মিয়া ঃ ইসলামী যুব আন্দোলনের নগর সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মো: ইমরান হোসেন মিয়া ইসলামী আন্দোলনের ঘোষিত ২৩ প্রার্থীর মধ্যে অন্যতম। ইতোমধ্যেই তিনি এলাকার আম-জনতার সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় সরকারের যে চরিত্র হওয়া উচিত তা তার মধ্যে আছে। বিশেষ করে সব রাজনৈতিক দলের সাথেই তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। এজন্য তিনি বিজয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে জলাবদ্ধতা দূর করতে নর্থ খালের সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ময়ূর নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় এ ওয়ার্ডের পানি সেখানে যেতে বাধাগ্রস্থ হয়। এজন্য ময়ূর নদীর সংযোগস্থলেরও সংস্কার দরকার। কিছু ভাসমান মাদক ব্যবসায়ীরও আনাগোনা ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রয়েছে সুপেয় পানিরও অভাব। নর্থ খাল ব্যাংক রোডের অগ্রগামী সংসদের পার্শ্ববর্তী ওয়াসার পাম্পটি বন্ধ থাকায় পানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। ডাষ্টবিন না থাকায় সাধারণ মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ওয়ার্ডের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গৃহস্থলী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ওয়ার্ডকে একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডে পরিণত করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন। তিনি মানুষের সুখে-দু:খে সাথে আছেন বলেও উল্লেখ করেন। মানুষ আগামী নির্বাচনে সেটি মূল্যায়ন করবে বলেও তার বিশ্বাস।