খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা তিনটি রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এ খারিজাদেশের ফলে নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনটি আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ খারিজ করে দেয়। মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক বেঞ্চে প্রার্থিতা নিয়ে করা পৃথক তিনটি রিট আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

এর আগে তৃতীয় বেঞ্চের প্রতি খালেদার অনাস্থার আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। খারিজের পর রিট শুনানি করতে বললে খালেদার আইনজীবীরা তাতে রাজি হননি। পরে ইসির পক্ষে মাহবুবে আলম শুনানি করলে খালেদার আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিন আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার করা পৃথক রিট আবেদনের ওপর ১১ ডিসেম্বর বিভক্ত আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যে কারণে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে পাঠান। এটি তৃতীয় বেঞ্চ হিসেবেও পরিচিত। এই বেঞ্চে আবেদনগুলো শুনানির জন্য উঠলে ১৩ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সময়ের আরজি জানালে আদালত গতকাল সোমবার দিন ধার্য রেখেছিলেন।

তবে হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চে গতকাল শুনানি হয়নি। খালেদার আইনজীবীর সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

গত ৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পেতে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার করা আপিল নামঞ্জুর করে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যা পরবর্তীতে হাইকোর্টে গড়ায়।

সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের সময় খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।