খুলনার আট উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

রঞ্জু আহমদ:: খুলনার ৯ উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। লাইব্রেরী, শপিং সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধাদের মিটিংয়ের জন্য সুবিধা নিয়েই তৈরি করা হয়েছে এসব কমপ্লেক্স। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। খুলনা মহানগরসহ ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিরই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটির কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর নাম দেওয়া হয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা নির্মাণ প্রকল্প। প্রতিটি কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা করে। ইতোমধ্যে জেলার কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া, রূপসা ও ফুলতলায় নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গেল ৩ মার্চ খুলনা সফরকালে এগুলোর উদ্বোধনও করেন। এছাড়া জায়গা সংকটের কারণে খুলনা মহানগর ও দাকোপ উপজেলায় এ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। তবে দাকোপে জায়গা পাওয়ায় এটির দরপত্র আহবানের কাজ চলমান রয়েছে। নগরীতেও কমপ্লেক্স তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছে এলজিইডি। তবে জেলা পর্যায়ে এ ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করছে পিডব্লিউডি।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ফলে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এ ছাড়া বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা জিনিসপত্র এ ভবনে সংরক্ষিত রাখা হবে। একটি কক্ষ জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উপজেলা কমান্ডের অফিস কক্ষের সঙ্গে কমপ্লেক্সে দুর্যোগকালে লোকজন আশ্রয়ও নিতে পারবে। তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের নিচতলা ও দোতলায় মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিচতলায় ৭টি এবং দোতলায় ৬টি করে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকান বরাদ্দ এবং ভাড়ার অর্থ দিয়ে এ কমপ্লেক্সের মেইনেটেন্যান্স ও অসহায় এবং দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও তৃতীয় তলায় উপজেলা কমান্ডারদের জন্য অফিস কক্ষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদেওর জন্য মিটিং রুম করা হয়েছে। যেখানে বসে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারবেন।
কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডি খুলনার সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী এএসএম তরিকুল হাসান পূর্বাঞ্চলকে বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট এসব ভবনে লাইব্রেরী, মার্কেট, নারী-পুরুষের পৃথক টয়লেট, প্রতিবন্ধীদের ওঠার জন্য স্বতন্ত্র র‌্যাম ও মুক্তিযোদ্ধাদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ উপজেলায় এ ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। জমি জটিলতায় দাকোপ উপজেলার কাজ দেরিতে হলেও এটি নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী মাসে এর দরপত্র আহবান করা হবে। নগরীতে এ ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কমপ্লেক্স তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নগর ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার প্রফেসর আলমগীর কবির বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এমন ভবন তৈরি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এসব ভবনের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা সাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য নিজস্ব জায়গা পেয়েছে। এখানে রাখা জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে।