খুলনায় ট্রেনের টিকিট পেতে দীর্ঘ ভোগান্তি

রঞ্জু আহমদ :: খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। ছয়টি কাউন্টারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু থাকায় এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে কোন অনুসন্ধান কেন্দ্র না থাকায় যেকোন তথ্যের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটের কারণে বাকিগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন স্টেশনেও পুরনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

খুলনা স্টেশনে আসা যাত্রীদের অভিযোগ, পুরনো রেলস্টেশনে টিকিট কাউন্টার ছিল দুটি বর্তমানেও তাই রয়েছে। যাত্রীদের টিকিট কাটতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চালু থাকা দুটি কাউন্টার থেকেই প্রাথমিক তথ্য নিতে হচ্ছে যাত্রীদের। ফলে একই লাইনে দাঁড়িয়ে ঘন্টা খানেক পর পেতে হচ্ছে তথ্য। নতুন রেল স্টেশনে কোন অনুসন্ধান কক্ষ নেই। পুরো স্টেশনে কোথাও কোনো টেলিফোনও নেই। ফলে কেউ টেলিফোন করে ট্রেনের সময় কিংবা ভাড়া সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারছেন না। ওয়েটিং রুমের টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।

খুলনা রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক রেলস্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়। গত ২৫ নভেম্বর নতুন এ রেলস্টেশন চালু করা হয়। এ স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী, বেনাপোল, ইশ্বরদীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে মোট ১১টি ট্রেন ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনে যাত্রী হয় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। এ অবস্থায় মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে সন্ধ্যা না পেরোতেই টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। তখন কেউ অগ্রিম টিকিট কিনতে পারেন না।
যাত্রীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে আগামী ২২ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। তখন ভিড় বাড়বে যাত্রীদের। সেসময়ও যদি মাত্র দুটি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হয়, তাহলে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

সোমবার কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে যান ইব্রাহিম আলম। তিনি বলেন, একদিকে গাড়ি ছাড়ার সময় খুবই কম। অন্যদিকে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। টিকিট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে গাড়ি ছেড়ে যাবে। তাই অনেকেই টিকিট না নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সবগুলো কাউন্টার চালু করা হলে যাত্রীরা টিকিট না নিয়ে গাড়িতে উঠবে না। তখন টিকিট পেতে দেরি হবে না।

কাউন্টারের বুকিং সহকারী মনির হোসেন বলেন, তাদের দুইটি কাউন্টার থেকে টিকিট দিতে হিমশিম খেতে হয়। আর যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে আগের মতোই অপেক্ষা করতে হয়। সকল কাউন্টার চালু করা হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।

মনিরা সুলতানা নামে এক যাত্রী বলেন, দুটি কাউন্টারের সাথে সংযুক্ত করে একটি কাউন্টার নারীদের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুইজন পুরুষ টিকিট পাওয়ার পর একজন নারী টিকিট পান। নারীদের জন্য পৃথক কাউন্টারটি বন্ধ রয়েছে। সে কারণে তিনি এক ঘণ্টা ধরে পুরুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারপর টিকিট কেটেছেন।

এদিকে স্টেশনের টয়লেট নোংরা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। মনিরুল ইসলাম ও আশরাফুল আলম নামে দুই যাত্রী জানান, আগের স্টেশন চত্বর ও প্লাটফর্মে খাবারের দোকান ছিল। নতুন স্টেশনে তা নেই। ফলে পানি, চা বা শুকনো খাবার কেনার জন্য স্টেশন চত্বরের বাইরে যেতে হয়।

যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয় নিয়ে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, আগের স্টেশন ভবনে তিনটি কাউন্টার ছিল, এর মধ্যে দুটি সবসময় চালু থাকত। নতুন স্টেশন ভবনে কাউন্টারের সংখ্যা ৬টি, কিন্তু জনবল আগের সেই সাতজন। ফলে দুটি কাউন্টার সবসময় চালু থাকে, আরও দুটি মাঝেমধ্যে চালু করা হয়। জনবলের অভাবে দুটি কাউন্টার একেবারেই চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সব টিকিট কাউন্টার চালু করতে গেলে আরও চারজন কর্মচারী প্রয়োজন। তিনি জানান, নতুন স্টেশন ভবনে এখনও পার্সেল রুম ও গুডস গোডাউন চালু হয়নি। ফলে ট্রেনে যেসব মালামাল আনা-নেওয়া করা হয়, তা অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। তিনি বলেন, নতুন স্টেশন ভবনে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।