খুলনায় প্রচার শেষ: কেন্দ্রে যাচ্ছে ভোটের সরঞ্জাম

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ সোমবার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেয়া হবে। এরপর তারা এসব সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবেন।

রাত পোহালেই মঙ্গলবার শুরু হবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে খুলনা নগরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভোটের দুই দিন আগে থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার, সিল, কালিসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম খুলনায় পৌঁছেছে।’

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য গতকাল রবিবার বিকাল থেকে ২২ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল দায়িত্ব পালন করছে। তারা নির্বাচনের সকল বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে।’

এর আগে গতকাল রাত পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণা চালান। রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। রবিবার সকালে প্রচারণার শেষ দিনে বৃষ্টির মধ্যেই প্রচারণা চালান প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে গিয়ে তারা নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন।

মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরাও বিরামহীন প্রচারণা চালান।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শফিকুর রহমান মুশফিক, হাতপাখা প্রথীকে ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক এবং কাস্তে প্রতীকে সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু।

এছাড়া নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খুলনায় এবার মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র রয়েছে ২৫৪টি। আর ৩৫টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কক্ষ রয়েছে এক হাজার ৫৬১টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি।

ভোট নেয়া এবং গণনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা রয়েছেন চার হাজার ৯৭২ জন।