খুলনায় মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের ৩১ অঙ্গীকার

বহুল আলোচিত নগর সরকার প্রতিষ্ঠাসহ মেয়র হতে পারলে ৩১টি কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। তিনি মনে করেন, সেবা সংস্থার মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা থাকে, নগর সরকার হলে সেটা থাকবে না।

ভোটে প্রচার নামার পরদিন বুধবার খালেকের ঘোষণা করা ইশতেহারে জলাবদ্ধতামুক্ত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন নগর গড়া এবং সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা ও সেবাকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী খালেক ২০১৩ সালের নির্বাচনে হেরে যান। এবার ভোটের জন্য আগ্রহী ছিলেন না তিনি। তবে দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বোর্ড তাকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর তিনি বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে খুলনায় ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে ২৪ এপ্রিল। সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খালেক জানান, তিনি নগর সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চান। এর কারণ হলো, ‘কেসিসি, ওয়াসাসহ নগরীর উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় করা সম্ভব হবে।’

নগরে ইজিবাইকে চাঁদাবাজি চলছে জানিয়ে মেয়র হলে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ করা এবং মাদক নির্মূল করতে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।

খালেক বলেন, ‘পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সহযোগিতা পেলে শহর থেকে ছয় মাসের মধ্যে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।’

৩১ দফায় যা আছে

মেয়র প্রার্থী খালেকের নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে ‘নগর সরকার প্রতিষ্ঠা’ ছাড়াও আছে, পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শক কমিটি গঠন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন।

নগরভবনকে দুর্নীতিমুক্ত করা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের কথাও আছে খালেকের ইশতেহারে।

হোল্ডিং ট্যাক্স বা আবাসন কর না বাড়িয় সেবা বৃদ্ধি, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির অঙ্গীকারও করেছেন খালেক।

গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বৃক্ষ রোপন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্ক আধুনিকায়নের কথাও বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের হত্যার পর গণকবর দেয়া হয়েছিল যেসব এলাকায় সেই বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থা, শিক্ষার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদানের কথাও বলেছেন খালেক।

এর বাইরে সুইমিং পুল স্থাপন, নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে আরও উদ্যোগ গ্রহণ, তিনটি নতুন থানা করা, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, ওয়াসা, কেডিএ, রেলওয়ে, টেলিকমিউনিকেশন ও বিদ্যুৎ পরিসেবার উন্নয়ন এবং খুলনা মহানগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন খালেক।

২০১৩ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর খুলনায় উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে জানিয়ে খালেক বলেন, ‘২০০৮ সালে সিটি মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সময়ে মহাজোট সরকারের আমলে কেসিসির সর্বাধিক এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছিল। অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা পেয়েছিল।’

‘২০১৬ সালের মধ্যে সব উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সঙ্গত কারণে তা সম্ভব হয়নি।’ আবার নির্বাচিত হলে আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ নগরবাসীকে অধিকতর সেবা দিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী তিনি।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শেখ হারুনুর রশীদ, সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী আমিনুল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মকবুল হোসেন মিন্টু, সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব আলী সানাসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।