খুলনায় ৬টি আসনের ৫টিতেই প্রার্থী দিতে চায় বিএনপির শরীকরা

এ এইচ হিমালয় : ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাবার ঘোষণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে খুলনার রাজনীতি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি ও তাদের জোটের শরীকরা। জোটগত নির্বাচনের জন্য খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন চেয়েছে শরীক দলগুলো।

এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৩টি, নাগরিক ঐক্য একটি, ২০ দলের শরীক খেলাফত মজলিস একটি এবং জামায়াত দুটি আসনে তাদের প্রার্থী দিতে চাইছে। একই আসনের দাবিদার জোটের একাধিক দল। ইতোমধ্যে বিষয়টি তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে জোটের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছেন এবং জোর লবিং শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিএনপি, জামায়ত, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা ও মুসলিম লীগ রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জোটগত নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াত প্রার্থীরা নির্বাচন করেছিলো। সদ্য গঠিত ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে খুলনায় বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের কমিটি আছে। তবে বিএনপি ছাড়া অন্যদের কর্মকান্ড ঘরোয়া সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী আসন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। দলগুলোর জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তাদের সুপারিশ পাঠিয়েছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে জোটের কাছে আসন বরাদ্দ চাইছে দলগুলো।

জেএসডির জেলা কমিটির সভাপতি আ ফ ম মহসীন বলেন, সেপ্টেম্বরে খুলনায় তাদের জনসভা হয়। সেখানে দলের প্রধান আ স ম আবদুর রব খুলনার ৩টি আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলেন। এর মধ্যে খুলনা-২ আসনে নগর কমিটির সভাপতি লোকমান হাকিম, খুলনা-৩ আসনে আ ফ ম মহসীন এবং খুলনা-৬ আসনে জেলা সাধারণ সম্পাদক কাউসার সানার পক্ষে মনোনয়ন চাওয়া হয়েছে। এই ৩টি আসন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা জোটের বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে তাদের জানিয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের নগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. মোঃ জাকির হোসেন জানান, খুলনা থেকে আমরা কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি। তবে কেন্দ্র থেকে আমাকে খুলনা-৩ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, খুলনা বিভাগের ৩৭টির মধ্যে একটি আসন আমরা চেয়েছি, খুলনা-৪। আমি নিজেই সেখানে প্রার্থী। ইতোমধ্যে আসনের তালিকা জোটের নেতাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০০১ সাল থেকেই খুলনা-৫ ও ৬ আসনে জামায়াত কাজ করছে। এবারও এ দুটি আসনে মনোনয়ন পাবার বিষয়ে তারা আশাবাদী। ইতোমধ্যে জোট থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

শরীকদের এমন দাবি প্রসঙ্গে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত আছি। তবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আন্দোলন, সংগঠন ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এটা জোটের বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে।