খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ

খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করে সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই দুই সিটিতে ভোট করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, স্থানীয় জনগনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। আর এই দুই সিটিতে সুষ্টুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা ইসির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ১৫ মে ভোটগ্রহণ করা হবে এ দুই সিটি করপোরেশনে। ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের  ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খুলনায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী মিলিয়ে ১৯২ জনের মধ্যে ১২৬ জনের পেশা ব্যবসা। আর গাজীপুরে ৩৪৫ জনের মধ্যে ২১৯ জনের পেশা ব্যবসা। গাজীপুরে প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। আর খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য এবং অবশ্যই সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির ভূমিকা সর্বাধিক। তারা চাইলে খারাপ নির্বাচন ঠেকাতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে পারে। কিন্তু সরকার এবং সরকারি দল প্রয়োজনীয় সহায়তা না করলে ইসির পক্ষে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভ নয়।’

প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যগুলো ইসিকে যাচাই-বাছাই করে দেখার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, হলফনামায় তথ্য গোপন করা ফৌজদারি অপরাধ। এ অপরাধে ইসি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারেন। ইসি কিন্তু এটি প্রযোগ করতে পারে। কেউ যদি তথ্য গোপন করে তাদের মনোনয়ন বাদ করা।

তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে সব প্রার্থীর হলফনামার তথ্য যাচাই করা দুরূহ উল্লেখ করে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নির্বাচিতদের তথ্য সাত দিনের মধ্যে যাচাই করা যেতে পারে। কারও তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা যেতে পারে।

গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।