খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে

খুলনা ও গাজীপুর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই অঞ্চল। এ দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে জল্পনাকল্পনা ও কৌতূহল। এ নির্বাচন আঞ্চলিক হয়েও জাতীয়, জাতীয় হয়েও ‘আন্তর্জাতিক’। দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত লাখো বাংলাদেশি চোখ রাখছেন এ নির্বাচনে। বস্তুত অনেকেই এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বার্তা পেতে চান, বুঝতে চান জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা।

এ নির্বাচনে অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির অংশগ্রহণ দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ের জন্যই এটা ‘অগ্নিপরীক্ষা’। রাজনীতিসচেতন ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিংবা অনুত্তীর্ণের মধ্যে নিহিত অনেক কিছু।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারণায় মেতেছেন প্রার্থীরা। বাড়িয়েছেন জনসংযোগ। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। কেসিসি এবং জিসিসির প্রার্থীদের এ জনসংযোগ ভোটারদেরও দিচ্ছে ভিন্ন উদ্দীপনা।

খালেকের ইশতেহারে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’
কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’-কে প্রাধান্য দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

কেসিসি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আগামী রোববার দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন বৈঠক দুটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বেলা ১১টায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এবং বিকাল ৪টায় সার্কিট হাউসে মেয়রপ্রার্থী অথবা তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা নন, ভোটার নন- এমন ব্যক্তিদের ১২ মে রাত ১২টার আগে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে হবে। ১৩ মে রাত ১২টা থেকে ১৬ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ১৪ মে মধ্যরাত থেকে বেবি টেক্সি, অটো, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকাপ, মোটরকার ও বাস চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচারণা ও পদচারণায় মুখরিত নগরের পাড়া-মহল্লার জনপদ। মাইকিং ও পোস্টার-লিফলেট বিতরণ চলছে সমানতালে। সেই সঙ্গে মিছিল-স্লোগান ও প্রচারণায় ব্যস্ত কর্মী-সমর্থকরা।

কেসিসি নির্বাচনে খুলনাবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিটি কলেজ মোড় এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, সিটি ভোটে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে না। কিন্তু দেশমাতাকে কারামুক্ত করতে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে দেশের দুই সিটিতে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই।

ফের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে কেসিসির মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে। নিজস্ব প্রাইভেট গাড়িতে নৌকা প্রতীকের পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল দিনভর নগরীতে গণসংযোগ করেছেন।

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগের সাত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাসানের কাছে ভোট চাইলেন জাহাঙ্গীর : গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে গতকাল দিনভর গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মহানগর মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি স্থানীয় ডেগেরচালা এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করেন। সমানতালে প্রচারণা চালিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান, ইসলামী ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরাও গণসংযোগ করেছেন।

বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের কাছে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নৌকা প্রতীকে হাসান উদ্দিন সরকারের ব্যক্তিগত ভোটটি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারকে খুন করেছে তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ জনগণের কাছে ভোট চাইছে। হাসান উদ্দিন সরকার শুধু বিএনপির প্রার্থীই নন। তিনি আগে-পরে অনেক ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।