খুলনা নগরজুড়ে নির্বাচনী আমেজ মাঠে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

এ এইচ হিমালয়:: আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু না হলেও বসে নেই প্রার্থীরা। দলীয় কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা, ওয়ার্ড পর্যায়ের বর্ধিত সভা, এমনকি শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে জনগণের কাছে ছুটে যাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ঘরোয়া বৈঠক, উঠান বৈঠক ও খোঁজ খবর নিতে ছুটছেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। প্রার্থীদের এই তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা খুলনা মহানগরীজুড়ে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেসিসি নির্বাচন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এখন পর্যন্ত মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৮২ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা মহানগরীতে এখন মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৪৪ হাজার ১০৭ জন নারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ৮ এপ্রিল প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরেই নির্বাচনী কার্যক্রম গতি পায়। ১২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন ঘর গোছাতে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো। খুলনার মেয়র পদে ৫টি রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক ও সিপিবির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুকে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী দেওয়া হলেও তার তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
গত কয়েকদিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রচারণা শুরু না হলেও ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচন। প্রায় ১০ বছর পরে খুলনা নগরে নৌকা ও ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতেই উন্মুখ হয়ে আছে মানুষ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নিয়ে আলোচনার শেষ নেই কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে। সৎ ও কর্মীবান্ধব দুই নেতার বিজয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী দুই দলের সমর্থকরা।
দলগুলোর নেতারা জানান, প্রায় প্রতিদিনই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। বিশেষ করে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীরা তাদের মেয়র প্রার্থীকে কাছে পেয়ে আরও সক্রিয় এবং উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের সদর থানা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, এখন ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মী সভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয় এবং কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনকে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক কর্মীদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। গতকাল রাতে আমরা মেয়র প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ৩১নং ওয়ার্ডে কর্মী সভা করেছি, এর আগে ২৮নং ওয়ার্ডে গাছতলা মন্দিরে সভা হয়েছে। বিকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করবো।
অন্যদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মী সভা ও সাংগঠনিক সভার পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে নগরীর বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেখানে নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনই একাধিক ওয়ার্ডে সভা রয়েছে তার।
বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ওয়ার্ডে সাংগঠনিক সভা আছে। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদলের সঙ্গেও পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৪ এপ্রিল ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অপরদিকে নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় আছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু গতদিন সদর থানার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল তিনি মতবিনিময় করেছেন যুব ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে। এর আগে তার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে সিপিবি।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হকও প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী জনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এতে করে তার নেতাকর্মীরা আরও সক্রিয় হচ্ছে।