খুলনা-মোংলা রেলপথ ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ

রঞ্জু আহমদ :: জটিলতা ছাড়াই এগিয়ে চলেছে খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে ৪৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বাগেরহাট অংশে চারটি স্টেশনসহ রেল লাইন নির্মাণে প্রায় ১৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ এখনও বাকি রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুরুর পর থেকে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে কোন জটিলতা ছাড়াই। তবে বাগেরহাট অংশে এখনও পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। এ অংশের প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেল লাইনের মধ্যে ৫টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে কাটাখালী, চুলকাঠি বাজার, ভাগা ও দিগরাজ এই চারটি স্থানে স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এসব স্টেশনের জন্য এ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হবে। এজন্য জমি প্রয়োজন প্রায় ১২ দশমিক ১৯ একর। এ জমির জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬ ও ৭ ধারা জারি করা হবে। এরপর জমি হস্তান্তর করবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। এছাড়া ইতোমধ্যে অধিগ্রহণকৃত বাগেরহাট জেলার কয়েকটি স্থানে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় ১৫০ মিটার রেললাইন নির্মাণ কাজ সম্ভব হচ্ছে না। এসব এলাকায় রেললাইন নির্মাণ বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সূত্রটি জানায়, খুলনা মোংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩-২০১৮ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আর তৃতীয় দফায় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, নতুন প্রকল্প পরিচালক মোঃ রমজান আলী যোগদানের পর থেকে কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোগত কাজ ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অর্থ ছাড় হয়েছে। কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পের বাগেরহাট অংশের প্রায় ১৩ একরের মত জমি অধিগ্রহণ এখনও বাকি রয়েছে। এটি ছাড়া বিভিন্ন অংশের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে রূপসা সেতুর ভায়াডাক্ট অংশে ৪টি স্প্যান উত্তোলন করা হয়েছে। সময় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, নকশা জটিলতা, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও জমি অধিগ্রহণ কাজে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ তিনটি অংশে বিভক্ত। যার একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। প্রকল্পের অধীনে লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ব্রডগেজ ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ মেইন লাইন। আর রূপসা নদীর উপরে খানজাহান আলী সেতুর দেড় কিলোমিটার দূরে যুক্ত হবে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু। এছাড়া ৩১টি ছোটখাট ব্রীজ ও ১১২টি কালভার্ট নির্মিত হবে। ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৮টি স্টেশন হবে। স্টেশনগুলোর মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মংলা। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেল লাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ এবং ব্রীজের জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকী টাকা জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের রেললাইন তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরকন’এর সাথে চুক্তি হয়। আর ব্রীজ তৈরির জন্য ওই বছরের ২৪ আগস্ট ভারতের ‘লারসেন এন্ড ট্যুব্রো’ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়।
রেলপথ নির্মাণের বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মোঃ আশরাফ উজ জামান বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা শক্তিশালী হবে খুলনা-মোংলা রেল চালু হলে। নতুন করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দর আরও গতিশীল হবে।