খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সার্কিট হাউজে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা। আগামী শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল নয়টা হতে রাত আটটা পর্যন্ত।
‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগসহ বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তৃণমূলে ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে সারাদেশের ন্যায় খুলনা জেলা প্রশাসনও তিনদিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে। জেলা পর্যায় ছাড়াও অন্যান্য উপজেলায়ও একইসাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উন্নয়ন মেলা।

আজ সকাল নয়টায় শহীদ হাদিস পার্ক থেকে র‌্যালী বের হয়ে সার্কিট হাউজে যাবে। সেখানে সকাল সাড়ে নয়টায় স্থানীয় মেলার উদ্বোধন শেষে নয়টা ৫০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে থীম সং। পরে সকাল ১০টায় জাতীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সার্কিট হাউজে ১৫৪টি স্টলে খুলনার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকান্ড প্রদর্শন করার পাশাপাশি অনস্পট সার্ভিস দেয়া হবে।

বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন গ্রহণ ও প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সংযোগ প্রদান, পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ, বিআরটিএ থেকে মোটরযানের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, অনলাইন ও অফলাইন ভূমি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি প্রযুক্তি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেল, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগের সকল প্রকল্পের ডেমো প্রদর্শন ও সরাসরি সেবা প্রদান, ব্যাংক হিসাব খোলা, ওয়াসার পানির সংযোগের আবেদন গ্রহণ, এজাহার/জিডি দাখিলের প্রক্রিয়া ও পুলিশ ভেরিফিকেশন/পুলিশ ক্লিয়ারিং, তাৎক্ষণিক জিডির ব্যবস্থা, ৯৯৯ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হবে স্টলগুলো থেকে।

খুলনা সার্কিট হাউজের আজকের উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। বিশেষ অতিথি থাকবেন কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো: দিদার আহম্মদ, কেএমপি কমিশনার মো: হুমায়ুন কবির, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ এবং খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক মো: আলমগীর কবির।

এছাড়া আগামী শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা শাখার সাবেক কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান।

উদ্বোধনী ও সমাপনী উভয় অনুষ্ঠানেই সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।
তিনদিনব্যাপী এ মেলার প্রথমদিন বিকেল তিনটায় ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে রিয়েলিটি শো, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ : দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার এবং সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুন এর সাথে গতকাল বুধবার রাত আটটায় খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মোজাফর আহমেদ ও খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা বিভাগের দু’টি উপজেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলতে পারেন। উপজেলা দু’টির একটি খুলনার বটিয়াঘাটা অপরটি নড়াইলের লোহাগড়া।

অবশ্য বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিন আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় থাকছেন মিরাক্কেলের আক্কেলে ভরপুর আনোয়ারুল আলম সজল। এমনটি নিজস্ব ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী।

বাংলাদেশ বেতার খুলনার উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো: শামীম হোসেন জানান, খুলনা সার্কিট হাউজের উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের মধ্যম তরঙ্গ ৫৫৮ কিলোহার্জে এবং এফ.এম. ১০০, ১০২ ও ৮৮.৮ মেগাহার্জে সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে বিশেষ অনুষ্ঠান এফ.এম. ৮৮.৮ মেগাহার্জে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।