খুলনা সিটি নির্বাচন তালুকদার আব্দুল খালেক-মঞ্জুর অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খুলনাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, তিনি মেয়র  থাকাকালে যেসব উন্নয়ন করতে পারেননি অর্থাৎ যে সকল অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ করে যেতে পারেননি নির্বাচিত হলে সেই কাজগুলো করতে চান। সকলের সহযোগিতায় খুলনাকে একটি উন্নত, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

এদিকে জনগণের কাছে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক কর্মী ?ও সুপরিচিত হওয়ার কারণে আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি মঞ্জু বলেন, ‘এ শহরের মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম এবং নগরবাসী সবসময় দেখেছেন আমি তাদের নিয়েই ভাবি। বিভিন্ন সংকটে মানুষের সেবায় এগিয়ে গিয়েছি। আর সে কারণেই মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে।’

কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ, পরিকল্পনা গ্রহণে ‘পরামর্শ কমিটি’ গঠন, কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ‘খুলনা ওয়াসা’কে সহযোগিতা করা, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি, পূর্ণাঙ্গ ‘আইটি ভিলেজ’ গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ন সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, ‘মেয়র পদক’ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়ন, সোলার পার্ক আধুনিকায়ন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মৃতির মিনার নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, টাউন সার্ভিস ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সুইমিং পুল স্থাপন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে আরো উদ্যোগ গ্রহণ, প্রস্তাবিত ৩টি থানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, খুলনা মহানগরীর সমপ্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ ও কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি কাজ বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মেয়র দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ যাবৎকালের সর্বাধিক ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ আনতে পেরেছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এ সময়ের মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। করপোরেশন ছেড়ে আসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭শ’ কোটি টাকার নানা প্রকল্প পাইপ লাইনে রেখে এসেছিলেন। দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজও বাস্তবায়ন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আমি খুলনা মহানগরীকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। খুলনা সিটি করপোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে সামর্থ্য হয়েছি। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে বিদ্যমান ও দৃশ্যমান সমস্যা নিয়ে কাজ করবো। সরকারি অর্থায়ন ছাড়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব। আর তাই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করার পর তা করতে না পারা কেউ ভালোভাবে নেয় না। নাগরিক তাদের দেয়া অর্থের নিশ্চিত ব্যবহার দেখতে চান। তাই নগরবাসীর অর্থে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘খুলনা বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর শহর এবং একটি শিল্পবন্দর। এ শহরের মানুষ নাগরিক সুবিধা চান। রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি বসতির উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতার উন্নয়ন চান নগরবাসী। আর সেটির জন্য তারা হোল্ডিং ট্যাক্স এবং বিভিন্ন ধরনের উৎস থেকে অর্থ দিয়ে থাকেন। এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার ও নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হলো কিনা সেটি দেখতে চান নগরবাসী। আমি মনে করি এ কাজটি মুখ্য। আকাশকুসুম কোনো কিছু না দেখিয়ে খুব বেশি উচ্চাশা প্রকাশ না করে নগরের বিদ্যমান সমস্যা নিয়েই কাজ করতে হবে এবং সে ব্যাপারেই আমার আগ্রহ। আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণায় এগুলোকেই সামনে নিয়ে আসবো।’ খুলনার মানুষ চায় এমন একজন মেয়রকে। যিনি সব সময় খুলনার মাটি ও মানুষকে নিয়ে ভাবেন, নগর উন্নয়ন নিয়েই যার চিন্তা চেতনা থাকবে। সে আলোকে আমি দীর্ঘদিন রূপসা হতে ফুলবাড়িগেট পর্যন্ত প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলি-গলির মানুষের সুখ-দুঃখের কথা জানি। তাই আমার সপ্ন থাকবে খুলনার উন্নয়ন। সেক্ষেত্রে নগর পিতা নির্বাচনে মানুষ ভুল করবে না। এটাই আমার বিশ্বাস।

মহানগর বিএনপি সভাপতি বলেন, ‘যানজটমুক্ত শহর দরকার, নিরাপত্তা দরকার, সড়ক ব্যবস্থা যাতে ভালো থাকে, মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো। এ ছাড়া রাস্তাঘাটের আবর্জনা পরিষ্কার করা মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা সরিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা, রাস্তাঘাটে বাতি আছে কিনা তা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা এসব বিষয়কে আমি সামনে নিয়ে আসবো। এসব বিষয় নিয়েই ভাবছি।’