চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’: নিহত ৪

দিনাজপুর, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এসব ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সংঘটিত হয়। নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান: দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে মাদক ব্যবসায়ী’র দু’গ্রুপের বন্ধুক যুদ্ধে আব্দুর রহিম (৪৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যুটার গান, এক রাউন্ড গুলি,এক’শ পিস ইয়াবা এবং ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম পাবর্তীপুর পৌর এলাকার রেল গেইট নামক এলাকার গোলাপ নবী হাবু’র ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল আলম প্রধান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শনিবার ভোর সোয়া ৩টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়,পার্বতীপুর বিলাইচন্ডী হাসের ডাঙ্গা এলাকায় টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী’র দু’গ্রুপের বন্ধুক যুদ্ধ চলছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গেলে আব্দুর রহিম (৪৬)কে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি স্যুটার গান,এক রাউন্ড গুলি,এক’শ পিস ইয়াবা এবং ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে। নিহত আব্দুর রহিমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ায় দু’মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে মোহাম্মদ ইসমাইল (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত ইসমাইল চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পুঁচপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। আজ (২১জুলাই) ভোররাত ৪টার দিকে চকরিয়া-লামা সড়কের কুমারিয়া ব্রীজের পাশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও ৪৬৫পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামছুদ্দীন ওরফে শ্যাম (৩৮) নিহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ভেড়ামারা-রায়টা সড়কের ব্যাকাপুল সেতুর মুখে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি  দেশী ওয়ান শুটারগান,  দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। শ্যাম ভেড়ামারা উপজেলার ক্ষেমিরদিয়াড় বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত কুব্বাত আলীর ছেলে।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী ভেড়ামারা-রায়টা সড়কের ব্যাকাপুল নামক স্থানের তিন রাস্তার মোড়ে সেতুর মুখে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। ভেড়ামারা থানার এস আই সালাউদ্দীন, এএসআই মাসুমসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক জনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার আসাদুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে পুলিশ জানতে পারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যাক্তি ভেড়ামারা উপজেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামছুদ্দীন ওরফে শ্যাম। তার বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় প্রায় ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মৃতদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লান এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার আবু খায়ের জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় র‌্যাবের একটি দল। মোল্লান এলাকায় পৌছলে র‌্যাবকে লক্ষ করে গুলি ছোঁড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। র‌্যাবও পাল্টা চালায়। এ সময় কয়েকজন মাদকব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের পরিচয় জানাতে পারেনি র‌্যাব। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।