জমজমাট জোড়াগেট কোরবানীর পশুর হাট, দেখছেন বেশি কিনছেন কম

বিক্রেতা-ক্রেতাদের আগমন, পশু কেনার জন্য দরাদরিতে এখন মুখরিত নগরীর জোড়াগেট অবস্থিত কোরবানীর পশুর হাট। হাটে ব্যাপক সংখ্যক পশু আমদানি হলেও দাম এখনো চড়া। এজন্য হাটে ক্রেতার সংখ্যা বেশি হলেও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক অনেক কম। রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত হাটে ১ হাজার ৭৬টি কোরবানীর পশু বিক্রি হয়েছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ২৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
রোববার খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও খুলনা নগরের একমাত্র পশুর হাট জোড়াগেট এলাকার পশুর হাট ঘুরে এই দৃশ্য চোখে পড়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরুর সংখ্যা পর্যাপ্ত, নতুন করে আরও গরু আসছে। তবে খুলনা শহরের লোকজন কয়েক দিন গরু দেখলেও কেনেন মূলত ঈদের আগের দুই দিন কাজেই আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হবে।
হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবছর অনেক মানুষ খামার থেকে আগেই গরু কিনেছেন বা বুকিং দিয়ে রেখেছেন। হাটের হাসিল দেওয়া ও নানান ঝক্কি থেকে বাঁচতে তারা এমনটা করেছেন
গরুর হাট ঘুরে দেখা গেল, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতাসহ হাটের সার্বিক পরিবেশ অনেক ভালো। হাট সংলগ্ন জলাশয়ে অনেকে গরুকে গোসল করাতে ব্যস্ত। বড় গরুর আলাদা যতœ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত খাওয়ানোসহ চলছে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা। হাটে ঢোকার মুখে গরুর দাম কিছুটা বেশি। হাটে বড় গরুর ক্রেতা কম। দেশী ছোট গরুর চাহিদা বেশি।
তেরখাদার পারহাজী গ্রামের আকন ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক ফরিদ খান হাটে বড় ও মাঝারি আকারের ৬টি গরু এনেছেন। অবস্থা বুঝে আরও ৩০টি গরু আনবেন। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই হাটে আছি। ৬টি গরু আনা হয়েছে। ২ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা করে দাম চাওয়া হচ্ছে। তবে বেচাকেনার আলামত পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর থেকে মো. মাজহারুল ইসলাম একটি বড় গরু হাটে এনেছেন। ‘বড় মিয়া’ নামের সাড়ে তিন বছর বয়সী কালো রংয়ের বিশালদেহী গরুটার দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ১০ লাখ টাকা। এটিই এখনও পর্যন্ত এই হাটের সবচেয়ে বড় গরু। গরুটির চারপাশ ঘিরে প্রচুর উৎসুক মানুষের জটলা দেখা যায়।
হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ও কেসিসির কাউন্সিলর শাসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, হাটের পরিবেশ অনেক ভাল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমনও অনেক বেশি। সোমবার থেকে মূল কেনাবেচা শুরু হবে।