জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী বাড়াবে আ.লীগ

আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী বাড়ানোর কথা জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। দশম সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২০ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল, সেখানে আগামী নির্বাচনে ২৫টির মতো আসনে নৌকা প্রতীক দলের নারী নেত্রীদের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমে বাড়ানোর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারই আগ্রহে ৩০ শতাংশ সংরক্ষিত নারী আসন তার আগ্রহেই করা হয়েছে। তবে সরাসরি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নারীরা সেভাবে মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

তবে সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য দলের তুলনায় আওয়ামী লীগ বেশি নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

দশম সংসদ নির্বাচনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে শেখ হাসিনাসহ ১৫ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্যরা হলেন: রংপুর-৬ আসনের শিরীন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-২ আসনের মাহাবুব আরা বেগম গিনি, যশোর-৬ আসনের ইসমত আরা সাদেক, খুলনা-৩ আসনের বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, শেরপুর-২ আসনের মতিয়া চৌধুরী, নেত্রকোণা-৪ আসনের রেবেকা মোমিন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগম, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাগুফতা ইয়াসমিন, ঢাকা-১৮ আসনের সাহারা খাতুন, গাজীপুর-৪ আসনের সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৫ আসনের মেহের আফরোজ, ফরিদপুর-২ আসনের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী,  চাঁদপুর-৩ আসনে দীপু মনি এবং নোয়াখালী-৬ আসনের আয়েশা ফেরদাউস।

এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে সানজিদা খানম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মতি শিউলী, চট্টগ্রাম-২ আসনে খাদিজাতুল আনোয়ার, কক্সবাজার-৩ আসনে কানিজ ফাতেমা আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে পরে আসনগুলো বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও ১৪ জোটের শরিকদের ছেড়ে দেয়ায় এই প্রার্থীরা বসে যান।

আর সংসদের মেয়াদে চারটি আসনে উপ-নির্বাচনে আরও চারজন নারী বিজয়ী হয়েছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পরে সুনামগঞ্জ-২ আসনে  তাঁর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর মৃত্যুর মৌলভীবাজার-৩ আসনে সৈয়দা সায়রা মহসীন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ শওকত হোসেন হিরণের মৃত্যুর পরে ওই আসনের উপ-নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী বেগম জেবুন্নেছা আফরোজে এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য বাগেরহাট-৩ আসন থেকে পদত্যাগ করে তালুকদার আব্দুল খালেক পরে উপনির্বাচনে নৌকার টিকেট পান তাঁর স্ত্রী হাবিবুন নাহার।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭টি আসনে ১৫ জন নারী সরাসরি নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। আর হেরে যান দুই জন। পরে উপ-নির্বাচনে আরও একজন নারী বিজয়ী হন।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বর্তমান সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বেশির ভাগই নারী সদস্যই আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। আর আগামী সংসদে আরও বেশি নারীর উপস্থিতি থাক এটা ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চান। আর এ কারণে কিছু আসনে নতুন নারী মুখ দেখা যাবে।

বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চিত সৈয়দ সাজেদা চৌধুরীর মনোনয়ন। কারণ, তার শারীরিক অবস্থা ভোট করার মতো নয়।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচিত যারা

প্রথমবারের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে পারেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী। লক্ষীপুর-৪ আসন থেকে ভোটের লড়াইয়ে আগ্রহী সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

চাঁদপুর-৫ আসনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তাও সরাসরি ভোটে নির্বাচন করতে চান।

টাঙ্গাইল-৬ আসনে (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে সরাসরি ভোটে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী নড়াইল-১ আসন থেকে ভোটে লড়তে আগ্রহী।

ঢাকা-১৪ আসনে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর নাম বিবেচনায় আছে।

জামালপুর-২ আসনে মুক্তিযোদ্ধা ও ৭৫ এর নভেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত খালেদ মোশাররফের মেয়ে মাহজাবিন খালেদকে নৌকা প্রতীক দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আছে। তিনি বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

জামালপুর-৫ আসনে বিবেচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী মারুফা আক্তার পপি।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে সেলিনা জাহান লিটা, কুমিল্লা-২ আসনে ব্যবসায়ী নেত্রী সেলিমা আহমাদ প্রমুখ, নোয়াখালী-৩ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী লুৎফুন্নাহার মুন্নী মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা আগাম জনসংযোগে ব্যস্ত।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচিত করে জনগণের জন্য কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সেই দায়িত্ব শতভাগ পালনের চেষ্টা করেছি এ কারণে মানুষের মধ্যে আমার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এলাকার জনগণ চায় আমি যেন সরাসরি নির্বাচন করে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করি।’

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। রামগতি আসনে সংরক্ষিত নারী কোটায় এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এলাকার মানুষ আমাকে এমপি হিসেবে নমিনেশন চাইতে অনুরোধ করছেন। আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, সরাসরি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ আগামী নির্বাচনে বাড়বে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নারীদের আসন ২৫টিতে নিতে চেষ্টা করব।

‘এখন ৫০টি আসনেই নারী প্রার্থী রয়েছে। তার মধ্যেই ২৫টি আসনেই আমরা চেষ্টা করব যাতে তাঁরা সরাসরি নির্বাচনে যেতে পারে।’

নির্বাহী কমিটিতেও বাড়বে নারীর সংখ্যা

দলের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষিত ৭৯টি পদের মধ্যে সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৫ জন নারী দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রয়েছেন তিনজন, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পাঁচজন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পাঁচ জন।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের শর্ত পূরণে এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে ৩০ শতাংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই হিসাবে নির্বাহী কমিটির আকার একই থাকলে আরও ১০ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর আকার বাড়িয়ে ৯০ জন করা হলে নিয়োগ দিতে হবে ১৫ জন নারীকে।