তালুকদার আব্দুল খালেক কেসিসি মেয়র নির্বাচিত

খুলনা সিটি কর্পোরেশন-কেসিসি নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মত মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর চেয়ে ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোট বেশী পেয়ে তিনি বিজয়ী হন। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রধান পতিদ্বন্দ্বি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান এক লাখ আট হাজার ৯৫৬ ভোট। ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফল এটি। বাকী তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। তবে ওই তিনটি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮৩১জন। কেন্দ্র তিনটি হচ্ছে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাউন্সিলরের কার্যালয়। এ তিনটি কেন্দ্রের মোট পাঁচ হাজার ৮৩১ ভোট রয়েছে।
তালুকদার আব্দুল খালেক ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেসিসির মেয়র ছিলেন। ২০১৩ সালের ১৫ জুনের ভোটে তিনি ৬১ হাজার ২০৭ ভোটে পরাজিত হলেও এবার ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। দিনভর ভোটগ্রহনের সময় অধিকাংশ কেন্দ্র ছিল আওয়ামীলীগের দখলে। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বেশকিছু কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।
সকাল ৮টায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ভোটের সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটারদের কোন অসুবিধা নেই। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর রহমতে উন্নয়নের জন্য খুলনার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট প্রবেশে বাধাদান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজেও ১৯৭৯ সালে জিলা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে পারেননি। তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তাছাড়া বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বলেই তাদের এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকতে পারছে না বলেও তিনি জানান।
পক্ষান্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সকাল সাড়ে ৮টায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই ভোট কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হলেও কোন ফল হয়নি। এ নির্বাচন জনগন চায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগন চায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে।
সকাল নয়টায় ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক বলেন, সুন্দর ও সাবলীলভাবেই জনগন ভোট দিচ্ছে। তিনি এসময় জানান, তিনি সবসময় নিজের দোষটা দেখেন অন্যের গুনটা দেখেন। কারও সমালোচনা তিনি করেন না।
সকাল সাড়ে নয়টায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সিপিবি প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, কি পরিবেশে ভোট হচ্ছে তা দৃশ্যমান। সুসংবাদ, দুসংবাদ, যন্ত্রনা সবই সবার জানা। নির্বাচনী মাঠে শুধু একপক্ষই আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে যান তার অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে নিয়ে।
সকাল সোয়া ১০টার দিকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম মোক্তাদির স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক। তিনি এসময় সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ভোটের অন্তরায়ের চিত্র বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোট জালিয়াতির খবর তিনি শুনেছেন বলেও জানান।
সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। প্রথমেই ২২ নম্বর ওয়ার্ডের খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট আলী আকবরকে মারধর করে বের করে দেয়া হয় বলে কাউন্সিলরপ্রার্থী মাহবুব কায়সার অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও তার এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। সকাল ১০টার দিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেরে বাংলা রোডের বিএনপির একটি অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করে দুবৃত্তরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালটে সীল মারার দৃশ্য ধরা পড়ায় সেখানে উপস্থিত হয়ে একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেন। একইভাবে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি কেন্দ্রের ভোটও বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগের কারনে দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর পরে আবার চালু হয়। দুপুরে খুলনা কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে কিছু অনিয়ম দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারকে দেখা যায় অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শিপইয়ার্ড স্কুল কেন্দ্রে দুপুর দেড়টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কিছ নেতা-কর্মীকে কেন্দ্র থেকে বের হতে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, কিছু লোক ভিতরে ঢুকেছিল কিন্তু বের করে দেয়া হয়েছে।
বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফল স্ব স্ব কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হয়। পরে ওই ফলাফল সীট নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সোনাডাঙ্গাস্থ বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মো: ইউনুচ আলী। সর্বশেষ ফলাফলে আওয়ামীলীগের তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।