তিন জেলায় গুলিতে নিহত ৪

বুধবার তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও গোলাগুলিতে মোট চার জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফে দুইজন, সিলেটে একজন এবং একজন খুলনার। প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে উপজেলার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় দুই মাদক কারবারি দলের মধ্যে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হন। পুলিশ বলেছে, নিহত দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মানবপাচার ও মাদকের মামলা রয়েছে।

নিহত দুইজন হচ্ছেন, সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে নজির আহমদ এবং হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নয়াপাড়ার আমির হামজার ছেলে আবদুল আমিন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন,  ‘দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে গুলিবিদ্ধ দুইজনের মরদেহ পাওয়া যায়। বাকিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি এলজি অস্ত্র, নয় রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

এদিকে সিলেট  প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে মোগলাবাজারের শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।  নিহত শহীদুল দক্ষিণ সুরমা থানার তেলিবাজার আহম্মদপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, ‘বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক কারবারিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে শহীদ গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শহীদ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। এর আগেও তিনি কয়েকবার ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন।’

অন্যদিকে খুলনার দৌলতপুরে একটি বালুর মাঠ থেকে মিরাজুল ইসলাম মারুফ নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত মারুফের মরদেহের পাশ থেকে একটি পাইপগান, একটি রিভালবার ও ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা  হয়েছে। পুলিশ বলছে,  মারুফ দৌলতপুরের হোজি শহিদ হত্যা মামলার আসামি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, ‘মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় বৌবাজারের বালুর মাঠে দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’