থেমে গেলেন গানের কারিগর

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের লোকজন তাকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল হানপাতালে নিয়ে  গিয়েছিল। কিন্তু ফেরানো যায়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে ৬৩ বছর বয়সে নিভে গেলেন বাংলা সংগীত জগতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

দীর্ঘদিন ধরেই বুলবুল হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় গত বছর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। এরপর থেকে বেশ কয়েকমাস ভালোই ছিলেন খ্যাতিমান এই সংগীত বিশারদ। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে যমদূত এসে তাকে ছো মেরে নিয়ে গেল।

ইউনিভার্সেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ চক্রবর্তী জানান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে সকাল সোয়া ছয়টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন বলে জানান হাসপাতালের ওই কর্তা।

১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের আরও একটি বড় পরিচয় আছে। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ছিনিয়ে এনেছিলেন লাল সবুজের পতাকা।

এরপর ১৯৭৬ সালে ঢুকে পড়েন সংগীত জগতে। তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে। দেশের বহু নামকরা কণ্ঠশিল্পীকে তিনি নিজ হাতে গড়েছেন। সংগীত পরিচালনা করেছেন শতাধিক ছবির। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন।

এছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, শিখা অনিবার্ণ পদক, বাচসাস পুরস্কার, সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড  এবং শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদকসহ বহু সম্মাননা। কিন্তু সব অর্জন ফেলে গানের কারিগর বুলবুল পাড়ি জমালেন অজানার উদ্দেশে। যেখান থেকে কেউ কোনোদিন ফিরে আসে না।