দারুণ জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

আমেরিকার মাটিতে আগে কখনও খেলেনি টাইগাররা। রোববার ফ্লোরিডার লডারহিলের সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে প্রথমবার খেলতে নেমে অসামান্য এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ এর সমতায় ফিরল টাইগররা। এদিন প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৯ রান তুলতে পারে ক্যারিবিয়রা।

ম্যাচের শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। এসময় অপুর হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন সাকিব। যেখানে আগের করা ৩ ওভারে ১ উইকেট নিয়ে রান দিয়েছিলেন ২৬, শেষ ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নিয়ে অধিনায়কের ভারসার প্রতিদান দিলেন এই ২৭ বছর বয়সী এই স্পিনার। ফলে বাংলাদেশ জয় পেল ১২ রানের।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে প্রথম ৩টি ডেলিভারি ওয়াইড দিয়ে বসেন কাটার মাস্টার। তবে দ্বিতীয় বলেই এভিন লুইসকে (১) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে তুলে নেন প্রথম উইকেট। তারপর পরবর্তী ওভারে বল করতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এসে আন্দ্রে রাসেলকেও (১৭) ফেরান মোস্তাফিজ। আর নিজের করা প্রথম ওভারেই দুর্ধর্ষ মারলন স্যামুয়েলসকে (১০) ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন সাকিব। এরপরের আঘাত রুবেলের। অষ্টম ওভারের প্রথম বলেই দিনেশ রামদিনকে (৫) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান তিনি।

এরপর আন্দ্রে ফ্লেচার ও রভম্যান পাওয়েল টাইগারদের হতাশা বাড়িয়ে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। এ জুটিতে ৪৩ বলে ৫৮ রান করে। এই জুটির দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা যখন ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছিল তখনই আঘাত হানেন অপু। ম্যাচের ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফ্লেচারকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই স্পিনার। তবে এর আগেই ৩৮ বলে ৪৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ফেলেন এই ওপেনার। তারপর এরপর ক্যারিবিয় অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথহোয়াইটকে (১১) ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে নিয়ে নেন সাকিব। ১৭তম ওভারে দ্বিতীয় বলে সাকিবকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে লিটন দাসের তালুবন্দি হন ক্যারিবিয় অধিনায়ক।

তারপর বাংলাদেশের জয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু এই জয় প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল পাওয়েলের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে। ৩৪ বলে তিনি করেন ৩৪ রান। কিন্তু তাকে মুশফিকুর রহীমের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত করেন মোস্তাফিজ।

অপু ও মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়া সাকিব ২টি ও রুবলে একটি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এদিন শুরুতেই ওপেনার লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। অ্যাসলি নার্সের করা ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে লিটন দাসকে এক্সট্রা কাভারে কার্লোস ব্র্যাথহোয়াইটের তালুবন্দি করেন নার্স। ফলে ৫ বল খেলে ১ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় লিটন দাসকে।

৩ নম্বরে নামা মুশফিকুর রহীমও এদিন ফিরে যান দ্রুত সেই নার্সের শিকার হয়ে। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে রিভার্স সুইং করতে গিয়ে আন্দ্রে রাসেলের তালুবন্দি হন মুশফিক (২)। এরপর সৌম্য সরকার এসে কিছুটা আলোর ঝলকানি দিলেও বেশি দূর এগুতে পারেননি। কিমো পলের একটি স্লো ডেলিভারিতে লং অফে রভম্যান পাওয়েলের তালুবন্দি হয়ে ১৪ রানেই ফিরে যান সাজঘরে।

এরপর তামিমের সাথে এসে জুটি গড়েন সাকিব। এ জুটির ঝড়ো ব্যাটিংয়েই বড় রানের ভিত্তি পায় বাংলাদেশ। তামিম এদিন তুলে নিলেন টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে দলীয় ১৩৮ রানের মাথায় তামিমের তাণ্ডব থামে আন্দ্রে রাসেলের বলে। তার আগেই অবশ্য ৪৪ বলে ৭৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেলেন তামিম। মেরেছেন ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। যার মধ্যে রাসেলের করা ১৬তম ওভারে নিয়েছেন ২২ রান, ৩টি ছক্কা ও ১টি চারের ঝড় তুলে।

অন্যদিকে ৩০ বলে সাকিব এ সংস্করণে নিজের সপ্তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ২০তম ওভারে কেমো পলের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৭ বলে ৬০ রানের বিধংসী ইনিংস খেলেন টাইগার অধিনায়ক। একটি ছক্কা ও ৯টি চারে সাজিয়েছেন তার এই অসামান্য ইনিংসটি।

আর মাহমুদউল্লাহ ১৩ ও আরিফুল হক ১ রানে অপরাজিত থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন নার্স ও পল।