দেশের আট অঞ্চলে ইভিএম মেলা আজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতে দেশের আট অঞ্চলে ইভিএম মেলার আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ শনিবার খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা অঞ্চলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ডেমো ভোটগ্রহণ প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মেলায়। এতে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এলাকার ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ইভিএমের প্রচার এবং জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য শনিবার দেশের আটটি অঞ্চলে ইভিএম প্রদর্শনী মেলা করা হবে। সেখানে নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ইসি সচিব জানান, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। আরপিও সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং সম্পন্ন হয়ে তা এখন মন্ত্রিপরিষদে আছে। এটি সংসদে পাস না হলে সংসদের অবর্তমানে অধ্যাদেশের মাধ্যমে পাস করা যেতে পারে। পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটা আইনে পরিণত হতে পারে। তবে যেহেতু সংসদ ২৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে, তাই এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দেড় লাখ ইভিএম কিনতে তিন হাজার ৮২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে এই সব ইভিএম আগামী জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে না। কারণ বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর আপত্তি রয়েছে এই যন্ত্রের প্রতি।

আর নির্বাচন কমিশনও চাপাচাপি না করে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটারদের আস্থা বাড়ানোর পক্ষে।

বাংলাদেশে ইভিএমের ব্যবহারের শুরু আওয়ামী লীগের গত আমলে। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম, পরের বছর নারায়ণগঞ্জ, ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন আর তার পরের বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তবে ওই যন্ত্রে কিছু ঝামেলা দেখা দেয়ার পর আর আগায়নি নির্বাচন কমিশন।

তবে বর্তমান কমিশন নতুন এক ধরনের ইভিএম ব্যবহার করছে। গত ২৬ ডিসেম্বরে রংপুরে একটি, ১৫ মে খুলনায় দুটি, ২৬ জুন গাজীপুরে ছয়টি এবং ৩০ জুলাই বরিশালে ১১টি এবং রাজশাহী ও সিলেটে দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়।

এই ৩৪টি কেন্দ্রের কোথাও ইভিএম নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। বরং ভোটাররা এই পদ্ধতিতে ভোটদানকে সহজ বলেছেন।

এই পদ্ধতিতে একজনের ভোট অন্যজনের দেয়া সম্ভব নয়। কারণ আঙ্গুলের ছাপ বা স্মার্ট আইডি কার্ড যন্ত্রে পাঞ্চ করেই ভোটারের পরিচিতি শনাক্ত করা যায়।