ধর্মঘটের প্রভাবে চড়া সবজির বাজার

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও প্রভাব পড়েছে সবরকমের সবজির দামের ওপর। ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় প্রায় প্রতিটি সবজির কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বিশেষ করে একদিনের ব্যবধানেই খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। প্রতিকেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। গেল সপ্তাহে শীতের আগাম সবজি শিম ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু ধর্মঘটের প্রভাবে কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়।

খুচরা বাজারে অধিকাংশ সবজি আগের চেয়ে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজিই তাদের ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশিতে কিনতে হয়েছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

অপরদিকে, স্থিতিশীল আছে পিয়াজের দাম। প্রতিকেজি দেশি পিয়াজ গেল সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। আর প্রতিকেজি আমদানি করা পিয়াজও বিক্রি হচ্ছে গেল সপ্তাহের মতো ২৫-৩০ টাকায়। প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। আর প্রতিকেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

এদিকে, পরিবহন ধর্মঘটে প্রভাব পড়েনি ব্রয়লার মুরগির দামের ওপর। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। প্রতি পিস কর্ক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।

মুরগির পাশাপাশি ডিমের দামও আছে অপরিবর্তিত। গেল সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হছে ১০৫ টাকায়। আর খুচরা দোকানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

সবজির এই দামবাড়ার কারণ এক সবজি বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবহন ধর্মঘটের ফলে বাজারে ঠিকমতো সবজি আসতে পারছে না। আর বাজারে যে পরিমাণ সবজির চাহিদা রয়েছে তার থেকে অনেক কম পরিমাণ সবজি বাজারে আসছে। তাছাড়া দূরপাল্লা থেকে সবজি নিয়ে আসতে ট্রাক মালিকরাও অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। আর যারাই ট্রাক নিয়ে দূরপাল্লা থেকে সবজি নিয়ে আসছেন তারাও বেশি দাম হাকাচ্ছেন। এর ফলে পণ্য পরিবহনে অনেক খরচ পরে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবেই দাম বেড়ে গেছে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যেরও।

এদিকে, খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। সবজি বিক্রেতা মফিজুল বলেন, গাড়ি বন্ধ থাকায় বাজারে মরিচ নেই। ফলে কাঁচামরিচ পাল্লাতে (৫ কেজি) ৩শ’ টাকা বেশিতে কিনতে হয়েছে। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা ফারুক বলেন, সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। যেখানে আগে গাড়ি ভাড়া ছিল ১০ হাজার, এখন সেখানে পরিবহন খরচ ৩০ হাজার টাকাও পড়ছে।
বাজার করতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা নাদিম বলেন, সব সবজিরই দাম বাড়তির দিকে। পরিবহন ধর্মঘটের নামে মানুষকে জিম্মি করে সবজির দামও বাড়ানো হয়েছে।

কাওরানবাজারের সবজির আড়তদারের সরদার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, অন্য সময় প্রতিদিন অন্তত ৫শ’ ট্রাক আসে। কিন্তু রোববার ২০টি ট্রাকও আসতে পারেনি। এছাড়া দেরিতে গাড়ি আসায় কোনো কোনো আড়তদারের সবজি মজুত রয়ে গেছে। বিক্রি করতে পারেনি। তিনি জানান, সাধারণত ট্রাক ভাড়া ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। এখন ৩০ হাজার টাকা দিলেও ট্রাক আসতে চায় না। এতে আমাদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে সবজি চাষিদেরও ক্ষতি হচ্ছে। তার মতে, সড়ক পথ বন্ধ থাকায় প্রতি ঘরে দিনে অন্তত ৪ হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে।