নগরীতে ঘরে ঘরে ভাইরাল জ্বর শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকট

সুবীর রায়:: নগরীতে সম্প্রতি ঘরে ঘরে ভাইরাল জ্বরে অক্রান্ত হচ্ছেন শিশু নারী পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত শিশুরা শয্যা সংকটের কারণে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছে না অনেক শিশু। বাধ্য হয়ে তারা খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হচ্ছেন।
খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন রাকিব জানান, খুলনা শিশু হাসপাতালে সর্বমোট ২৭৫টি শয্যা ও ৪৪টি কেবিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি থাকায় নতুর শিশু রোগী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। অনেকের ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন থাকলেও শয্যা সংকটের কারণে তাদের ভর্তি করা যাচ্ছে না। যেহেতু শিশু হাসপাতালে শয্যার বাইরে কাউকে ভর্তি করা হয় না, সেহেতু অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। খুলনা জেনারেল বা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা না থাকলেও সেখানে রোগী ভর্তি করে নেয়া হয়। কিন্তু শিশু হাসপাতালে সেটি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে ৪১৭জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩২জন জ্বরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়। একই সময়ে বহির্বিভাগে কনসালটেন্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে ৮৯৬জন শিশু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। এছাড়া মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন ৩হাজার ৫০৮জন শিশু।
চিকিৎসকরা বলছেন, চলতি শ্রাবণ মাসে অতিমাত্রায় গরম এবং কখনো কখনো বৃষ্টির কারণে শিশুরা ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অত্যধিক গরমে শিশুদের শরীরে ঘাম বসে গিয়ে জ্বর, সর্দি কাশি হচ্ছে। জ্বরে আক্রান্ত হলে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগছে জ্বর থেকে সেরে উঠতে। জ্বরে শুধু শিশুরাই নয়, বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা মাথা ব্যথা, বমি ও অরুচীতে ভুগছেন। কিছু¦ই খেতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে নগরীর বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ এস আহসান বলেন, এটি একটি সিজনাল ভাইরাল ফিভার (জ্বর)। এ জ্বর নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর ৫ থেকে ৭দিন থাকতে পারে। তবে জ্বর শুরু হওয়ার সাথে সাথে কেউ যেন এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার না করেন। জ্বর হলে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। ৩/৪ দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল এবং তরল খাবার দিতে হবে। তরল খাবারের মধ্যে পানি, সরবত, ফলের জুস এবং স্যুপ খাওয়ানো উচিত। তাহলে শিশুরা চনমনে থাকবে।