নগরীতে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী পাড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের একটি বাগানে ওমর ফারুক নামে এক পাষ- স্বামী তার স্ত্রী নুপুর বেগমকে (২২) পিটমোড়া দিয়ে দু’ হাত এবং কাপড় দিয়ে মুখ ও চোখ বেঁেধ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নৃশংস এ হত্যাকা-টি ঘটেছে সোমবার রাতে। নিহত গৃহবধূ নূপুর বেগমের এক বছর ২মাস বয়সের মো. আব্দুল্লাহ নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘাতক স্বামী ওমর ফারুক (২৭) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ফারুক বলেন, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে তার সংসার বিষিয়ে উঠেছিল। অনেক বুঝিয়েও তাকে ওই পথ থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না। আর সে কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করি। সে মতে সোমবার রাতে স্ত্রী নুপুরকে বলি চলো আমরা আজ বাগানে গিয়ে গল্প করি। বাগানে আগেই কুড়াল রাখা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গামছা দিয়ে দু’ হাত এবং পরনের শাড়ি দিয়ে মুখ ও চোখ বেঁেধ উপুর করে মাটিতে শুইয়ে কুড়াল দিয়ে ঘাড়ে ৪টি কোপ দিয়ে হত্যা করি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খানজাহান আলী থানার এসআই সুমঙ্গল কুমার দাশ আসামি ওমর ফারুককে আদালতে হাজির করেন। আদালতের বিচারক খুলনার মহানগর হাকিম মোঃ আতিকুস সামাদ ওমর ফারুকের দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ওমর ফারুক খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী পাড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে। সে রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপির) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মোঃ জামিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত-উত্তর) ভাস্কর সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খানজাহান আলী থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহত নুপুরের পিতা খলিল হাওলাদার ফারুকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চার বছর আগে খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী পাড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রীর হেলপার ওমর ফারুকের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার বালিয়ারডাঙ্গা গ্রামের খলিল হাওলাদারের মেয়ে নুপুরের বিয়ে হয়। সম্প্রতি ২/৩ মাস পূর্ব হতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। সোমবার রাতে ওমর ফারুক তার স্ত্রী নুপুরকে বাড়ি থেকে ৫০০গজ দূরে একটি বাগানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সে তার স্ত্রীকে প্রলোভন দিয়ে প্রথমে তার দু’হাত গামছা দিয়ে পিটমোড়া দিয়ে বাঁধে। পরে কাপড় দিয়ে তার মুখ ও দু’চোখ বাঁধে। একপর্যায়ে সে নুপুরকে উপুর করে শুইয়ে কুড়াল দিয়ে ঘাড়ে ৪টি কোপ দিয়ে হত্যা করে বাড়ি চলে আসে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফারুক হত্যাকা-টির ঘটনা তার পিতাকে জানায়। পরিবারের লোকজন ওই বাগানে গিয়ে হাত, মুখ ও চোখ বাঁধা মৃত অবস্থায় তার পুত্রবধূকে দেখতে পেয়ে বাড়িতে এসে ঘাতক ফারুককে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে খানজাহান আলী থানা পুলিশ রাতেই তাকে আটক করে। এঘটনায় নিহত নুপুরের পিতা খলিল হাওলাদার বাদী হয়ে জামাই ওমর ফারুককে আসামি করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।