নতুন খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণে ব্যয় ও সময় বাড়ছে

রঞ্জু আহমদ:: খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণে বাড়তে পারে ব্যয়। সেই সাথে সময় বৃদ্ধির জন্যও আবেদন করা হবে। প্রকল্প গ্রহণের পর ইতোমধ্যে এক যুগ পার হতে চলেছে এ প্রকল্পে। পুরো কাজ শেষ হতে ২০২০ সালের জুন মাস লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। কাজের এত দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক নেতারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-২।
নির্মাণাধীন কারাগার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর সিটি বাইপাস সড়কের পাশে ৩০ একর জমিতে নতুন এই কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। নির্ধারিত স্থানে আসামিদের থাকার জন্য তিনটি ব্যারাক নির্মাণ কাজ শেষের পথে। পুরো কারাগার এলাকায় প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। কারাগারের চারপাশে বন্দীদের সুরক্ষার জন্য ১৮ ফুট উঁচু পেরিমিটার দেয়াল নির্মাণের পাইল ড্রাইভের কাজও চলছে। এই দেয়ালের বাইরে কারারক্ষীদের থাকার জন্য পৃথক ছয়টি কোয়ার্টার নির্মাণ হচ্ছে। সর্বমোট ১১টি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কাজের মধ্যে বাকিই রয়েছে ঢের কাজ।

গণপূর্ত বিভাগ থেকে জানা গেছে, দুই দফা স্থান পরিবর্তন, নকশা পরিবর্তন, মাটি ভরাট ও প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধনসহ নানা কারণে দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে এই প্রকল্প। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের নকশা হাতে পাওয়ার পর দরপত্র আহবান প্রক্রিয়া শুরু হয়। জুনের ভেতরেই অধিকাংশ দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কাজ শুরু হয়। কারাগারটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৫১ কোটি টাকা।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে গ্রহণ করা হয় খুলনা নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প। ২০১১ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। কিন্তু স্থান পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় ৮ বছরেও এর কাজ শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর গতবছর জুনে কাজ শুরু হয়েছে দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারের নির্মাণ কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময় ২০১৯ সালের জুন মাস।

তবে এসময়ে এর কাজ শেস করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাসুম। তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হিসেব ধরলে সেটা দীর্ঘ সময় বলেই বিবেচিত হবে। তবে আমরা কাজের নির্দেশ পেয়েছি ২০১৭ সালের জুন থেকে। তবে এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে হবে না। আরও একবছর সময় বাড়ানোর দরকার হবে। আমরা আবেদন করব। একই সাথে ব্যয়ও বাড়বে। তিনি বলেন, এ কাজ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে জেল কোড মেনে। যে কারনে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে এখনও কাজ বাকি রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, সাক্ষাতকার ভবন, রাস্তা, ড্রেন, ওপেন বাথরুমসহ অনেক কাজ। যেগুলোর এখনও টেন্ডারই দেওয়া হয়নি। কয়েকবছর আগের করা ডিপিপির সাথে বর্তমানে জিনসপত্রের দামের পার্থক্য রয়েছে। যে কারণে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সূত্রটি জানিয়েছে, কারাগারটির হবে ২ হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি গড়ে তোলা হবে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থানে রাখা হবে। মা ও শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ নারীদের ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার, পুরুষ বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকবে। আরও থাকবে বন্দিদের জন্য স্কুল, আধুনিক লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, সেলুন ও লন্ড্রি। থাকবে শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে- কেয়ার সেন্টার। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। শিশুসহ মা বন্দিদের জন্যও থাকবে আলাদা আরেকটি ওয়ার্ড। কারাগারে পুরুষ ও নারী বন্দিদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, ‘কাজে কোন দেরি হচ্ছে না। বরং দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ক ওয়ার্ডার পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কাজ। তবে মাস্টার প্লান পরিবর্তন ও জমি আধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় এটি দেরি হয়েছে।’

কাজের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের তদারকির অভাবে খুলনার বড় বড় কাজগুলো বাস্তবায়নে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। খুলনার কাগার নির্মাণ প্রকল্পও তার মধ্যে অন্যতম’।