নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা

সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলতে পা রাখল আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে বাঁচা-মরার ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসির দল। শেষ ষোলতে তাদের প্রতিপক্ষ ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি হবে ডেনমার্কের। আর্জেন্টিনার হয়ে জয় সূচক গোলটি করেছেন মার্কোস রোহো। আর প্রথম গোল আসে মেসির পা থেকে। নাইজেরিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন ভিক্টর মোসেস। গ্রুপের অন্য খেলায় আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

বিশ্বকাপে কখনোই নাইজেরিয়ার কাছে হারেনি আর্জেন্টিনা। তবু ২০০২ সালের পর গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কা নিয়ে এদিন মাঠে নেমেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের নবম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত নাইজেরিয়া। কিন্তু আহমেদ মুসার শটটি গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। এছাড়া প্রথমার্ধের পুরোটা সময় তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে মেসিদের আক্রমণ সামলাতে।

তারপর প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ই আর্জেন্টিনার আক্রমণের ইতিহাস। দলটি। গেল দুই ম্যাচের দুঃস্বপ্ন ভুলে সেই আক্রমণের নেতৃত্ব দেন মেসি। যে মেসি প্রথম দুই ম্যাচে ছিলেন বিবর্ণ, সেই মেসির পা থেকে প্রথম গোলটি পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে এভার বানেগার লম্বা ক্রস বক্সের কিছুটা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ঢুকে পড়েন মেসি। তারপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে নাইজেরিয়ার গোলকিপার ফ্রান্সিস উঝোকে পরাস্ত করে জালে জড়ান তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ গোল। আর টুর্নামেন্টের শততম গোল এটি।

২৭ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে হিগুয়েইন ঢুকে পড়েছিলেন প্রতিপক্ষের বক্সে। কিন্তু সামনে এগিয়ে এসে তাকে বাধা দেন উজোহা। ৩২ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন দি মারিয়া। দ্রুত গতিতে তিনি বক্সে ঢোকার আগে বালোগান তাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পাল্টা আক্রমণে যায় নাইজেরিয়া। এর মধ্যে ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কর্নার পায় তারা। কিন্তু হাভিয়ে মাচেরানো নিজেদের ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করে সর্বনাশটা করেন। নিজে দেখেন হলুদ কার্ড। আর প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেন পেনাল্টি শ্যুট। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোন ভুল করেননি মোসেস।

এরপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণে যায় নাইজেরিয়া। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে বারবারই ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের শেষ দিকে এসে জয় পেতে মরিয়া আর্জেন্টিনাও পাল্টা আক্রমণে যায়। আর ৮৬তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন রোহো। গাব্রিয়েল মের্কাদোর ক্রসে দারুণ ভলিতে জাল খুঁজে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের এই ফরোয়ার্ড। ২০১৪ সালেও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন রাহো। এনিয়ে টানা চারটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল আর্জেন্টিনা।