নারী বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এরপর স্কটল্যান্ডকে ৪৯ রানে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছিল নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাও। এতো প্রাপ্তির পরও থেমে থাকেনি তারা। নিজেদের বিজয় নিশান উড়িয়ে চলেছে। শনিবার ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয় সালমা খাতুনের দল।

১২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা আইরিশ মেয়েদের থামিয়েছে ৯৭ রানে। পান্না ঘোষের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আসে এ দাপুটে জয়। তিনি একাই নেন ৫ উইকেট। এশিয়া সেরার মুকুট পরেই বাছাই পর্বে খেলতে গিয়েছিলো মেয়েরা। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল কন্ডিশন। কিন্তু ব্যাটে-বলে উড়ন্ত পারফরম্যান্সে সব বাধা টপকে নারী ক্রিকেট দলের ইতিহাসকে করে তোলেন আরো সমৃদ্ধ। গত মাসে মালয়েশিয়া থেকে এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছিল টিম টাইগ্রেসরা। বাছাইপর্ব শুরুর আগে আয়ারল্যান্ড সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ সিরিজে দ্বিতীয় ট্রফি হাতে তুলে নেয়। এরপর জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে চ্যাম্পিয়ন হয় বাছাই পর্বেও। বলতে গেলে এক মাসে তিন সাফল্য ঘরে তুলেছে নারী ক্রিকেট দল।
শনিবার ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে শুরুতে বিপদেই পড়েছিল নারী ক্রিকেট দল। সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেন আয়েশা রহমান শুকতারা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আয়েশা রহমানের ক্যারিয়ার সেরা ৪৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তোলে বাংলাদেশ। যেভাবে শুরু করেছিল দল তাতে সংগ্রহটা বড় হতে পারতো। শেষ ৮ ওভারে বাংলাদেশ ইনিংসে যোগ হয় মাত্র ৪২ রান। হারাতে হয় ৮ উইকেট। জবাব দিতে নেমে আইরিশ মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন গ্যাবি লুইস। রিচার্ডসন করেন ২৩ রান। রুমানা আহমেদ ও নাহিদা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট। আসল কাজটি করেন পান্না ঘোষ, ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। মেয়েদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের এটিই সেরা বোলিং ফিগার। আগেরটি ছিল জাহানারা আলমের। গত মাসে ২৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই।