নয় জেলায় ‘মডেল মসজিদের’ ভিত্তি স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

দেশের ৫৬০টি উপজেলায় মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে নয়টির জেলায় এই নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এই ধর্মীয় স্থাপনার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। যে নয়টি জেলায় এসব স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে সেখান থেকে স্থানীয়রাও ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন এই অনুষ্ঠানে

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, চট্টগ্রাম, ঝালকাঠি, নোয়াখালী বগুড়া, খুলনায় প্রাথমিকভাবে মসজিদগুলো নির্মাণ হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে আরও ১০০টি জেলা-উপজেলায় এবং ২০১৮ সালের মধ্যে বাকি ৪৯১টি মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যেই এগুলোর কাজ শেষ হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯১ উপজেলা সদরে মসজিদগুলো হবে।

এর মধ্যে উপকূলীয় ১৬টি উপজেলায় মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নকশা হবে ভিন্ন। জলোচ্ছ্বাসের পানি আসলে যেন সমস্যা না হয়, সে জন্য সেখানে নিচ তলা থাকবে ফাঁকা।

পাঁচ সিটি করপোরেশন এবং জেলা সদরগুলোতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো হবে চার তলার। এতে একসঙ্গে এক হাজার ২৫০ জন নামাজ পড়তে পারবেন। একেকটির নির্মাণ ব্যয় হবে ১৫ কোটি টাকা।

৪৭৫ উপজেলায় বি টাইপের স্থাপনাগুলো তবে তিন তলা। সেখান এক সঙ্গে ৯০০ জনের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। এগুলোর একেকটির নির্মাণ ব্যয় হবে ১৩ কোটি টাকা।

উপকূলীয় ১৬ জেলায় চার তলার স্থাপনাগুলোতেও এক সঙ্গে ৯০০ মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। এগুলোর একেকটির নির্মাণ ব্যয়ও হবে ১৩ কোটি টাকার মতো।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ছড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী

এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, এটাই আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা যেন মানুষ পায় আর ইসলামিক সংস্কৃতিটা যেন আমাদের দেশের মানুষ সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারে, চর্চা করতে পারে, সে দিকে লক্ষ্য রেখেই উদ্যোগটা নিয়েছি।’

‘ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। মানুষকে হত্যা করা থেকে শুরু করে নানা রকম সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের সুনামটা নষ্ট করে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

‘আমরা চাই আমাদের পবিত্র ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত থাকুক। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর সে শান্তি যেন বজায় থাকে, সে দিকেই আমরা লক্ষ্য রাখি।’

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের অঙ্গীকার ছিল।

২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। তিনি মসজিদে লাইব্রেরি, গবেষণা কক্ষ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশু শিক্ষা কার্যএম, পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদের নামাজ কক্ষ, অতিথিশালা এবং বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শন এবং হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও নির্দেশনা দেন।

সেই নির্দেশনার আলোকেই নির্মাণ করা হচ্ছে এসব স্থাপনা। মোট আট হাজার ৭২২ কোটি টাকায় এই মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আর নির্মাণ করবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ মেলেনি। পরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই মসজিদগুলো প্রকল্পের পটভূমিতে বলা বলা আছে, মুসুল্লিদের জন্য নামাজ, প্রশিক্ষণ ছাড়াও সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সরকারের উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ইসলামিক জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধের যথার্থ লালন ও বিকাশ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে’- জাতির পিতার এই চেতনা এবং চিন্তার কথাও তুলে ধরেন তার কন্যা। বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছেন ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা। এটা ইসলামেরও মূল কথা।’

‘ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মকে সম্মান করে। আমরা সেটাই চাই। আমরা সেভাবেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।’

‘আমরা চাই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস থাকবে না। মাদক থাকবে না। প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক প্রতিটি মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হবে এবং বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।’

এরপর নয়টি জেলা থেকে মসজিদের ইমাম ও খতিবরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। তারা এই উদ্যোগ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলন, ‘আমরা চাই, আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে মানুষ জানুক, ধর্ম পালনে মানুষ আরও উৎসাহিত হোক।’

‘ধর্ম চর্চাটা যেন তারা করে এবং বাংলাদেশকে একটা শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানও এ সময় বক্তব্য রাখেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ‍প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব সৈয়দ নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক সম্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।